হাইতির প্রায় ১৩,০০০ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার — আনুমানিক ৬৫,০০০ মানুষ — জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) জরুরি খাদ্য উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় বীজ ও ছোট গবাদিপশু পাচ্ছে বলে ১৭ সেপ্টেম্বর Port-au-Prince থেকে সংস্থাটি জানিয়েছে। Artibonite, Centre ও Ouest — এই তিন উচ্চ-চাহিদার বিভাগের দশটি পৌর এলাকায় বিতরণ চলছে।
Regional Humanitarian Pool Fund for Latin America and the Caribbean (RHPF LAC)-এর মাধ্যমে ১৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থায়নে পরিচালিত এই কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত ৩,২৬,০০০ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। সংকটকবলিত এলাকার কৃষক পরিবারগুলো পাচ্ছে ২০৫ টনের বেশি ফসল ও সবজির বীজ এবং স্থানীয় উৎপাদন ও খাদ্যাভ্যাসের উপযোগী ১,৬০,০০০-এর বেশি ছোট গবাদিপশু।
হাইতি এখন বিশ্বের সবচেয়ে তীব্র খাদ্য সংকটগুলোর একটির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সহিংসতা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, বিঘ্নিত সরবরাহ শৃঙ্খল ও বারবার জলবায়ু আঘাত খাদ্যের নাগাল কমিয়ে দিয়েছে, দুর্বল করেছে স্থানীয় উৎপাদন ও গ্রামীণ জীবিকা। Integrated Food Security Phase Classification (IPC)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশটির অর্ধেকের বেশি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় আছে।
"মানবিক সংকটে জরুরি খাদ্য উৎপাদন একটি জীবনরক্ষাকারী হস্তক্ষেপ, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে দ্রুত খাদ্য উৎপাদনে সক্ষম করে এবং আমদানি ও বারবার মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমায়," বলেন হাইতিতে এফএওর প্রতিনিধি Pierre Vauthier। তাঁর মতে, এই বিতরণ আঞ্চলিক তহবিল বাস্তবায়নের একটি মাইলফলক — ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যখন সবচেয়ে বেশি দরকার তখনই প্রয়োজনীয় উপকরণ পাচ্ছে।
এফএও জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার চিহ্নিত ও যাচাই করা থেকে শুরু করে সহায়তা স্থানীয় চাহিদার সঙ্গে মিলছে কি না তা নিশ্চিত করা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সম্প্রদায় যুক্ত থাকে। Vauthier এই কার্যক্রমকে "হাইতিয়ানদের দ্বারা হাইতিয়ানদের জন্য বাস্তবায়িত" বলে বর্ণনা করেন, যা পরিবারগুলোকে নিজেদের চেষ্টায় পুষ্টিকর খাদ্য ফলাতে ও জীবিকা রক্ষা করতে সক্ষম করছে।
দ্বিতীয় ধাপে ১,৬০,০০০-এর বেশি ছোট প্রাণী — হাঁস, মুরগি, গিনি ফাউল, খরগোশ ও ছাগল — ২৯,৩৯৪-এর বেশি পরিবারে বিতরণ করা হবে, যাতে তারা দ্রুত প্রোটিন ও প্রাণিজ খাদ্যের উৎস পায়। এফএওর ভাষ্য, ধাপে ধাপে এই বিতরণ ক্ষতিকর মোকাবিলা-কৌশল অবলম্বন কমাবে এবং চলমান ত্রাণনির্ভরতা কাটিয়ে পরিবারগুলোকে স্বনির্ভরতার পথে নেবে।
OCHA-পরিচালিত Country-Based Pooled Funds-এর অর্থে এফএও নয়টি দেশে জরুরি খাদ্য উৎপাদন কার্যক্রম চালাচ্ছে; হাইতি তার একটি। বাকি দেশগুলো হলো বাংলাদেশ, চাদ, কলম্বিয়া, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, হন্ডুরাস, মিয়ানমার ও সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্র। দ্রুত বীজ ও গবাদিপশু সহায়তা সংকটাপন্ন গ্রামীণ পরিবারকে উৎপাদনে ফেরায়, আর অন্য ধরনের মানবিক সহায়তার তুলনায় এর খরচ অনেক কম।
সূত্র: এফএও নিউজরুম





মন্তব্য
(০)