কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার শাপলাপুরে সংরক্ষিত বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া মেঠো পথটি ১৮ ফুট চওড়া সড়কে রূপ নিচ্ছে, যাতে ঝুঁকিতে পড়ছে দেশের একমাত্র পাহাড়ি বনসমৃদ্ধ দ্বীপের এই বন। ১৬ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় দেড় কিলোমিটার পথের কিছুদূর পরপর কংক্রিটের ঢালাই, দুই পাশে পাহাড় ঘেঁষে ঘরবাড়ি, দোকান ও পানের বরজ, যাঁদের সবাই বন বিভাগের নথিতে জবরদখলকারী।
বন বিভাগের তথ্যে ১৯৫৭ সালে বন আইনের ২০ ধারায় শাপলাপুরের ১২ নম্বর পাহাড় মৌজাকে সংরক্ষিত বন ঘোষণা করা হয়, যেখানে বনভূমি ১৮ হাজার ২৮৬ একর। এর ভেতরে অবৈধভাবে ঘরবাড়ি ও দোকান করে থাকেন চার হাজারের বেশি মানুষ; সড়ক হলে তাঁরাই সুবিধা পাবেন এবং দখলের প্রবণতা বাড়বে বলে জুনে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে চিঠি দেয় বন বিভাগ।
জাইকার অর্থায়নে সাড়ে চার কিলোমিটারের সড়কটি নির্মাণ করছে এলজিইডি, ব্যয় ২২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। উপজেলা প্রকৌশলী বনি আমিন বলেন, সড়কটি তাঁদের আইডিভুক্ত; আদালতের নিষেধাজ্ঞার কথা শুনেছেন, তবে আদেশের নথি পাননি। তাঁর দাবি, সড়ক হলে পাশের ইউনিয়নের সঙ্গে দূরত্ব ২০ কিলোমিটার থেকে সাড়ে চার কিলোমিটারে নামবে।
শাপলাপুরের বিট কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র সরকার বলেন, বন আইনে সংরক্ষিত বনে কোনো স্থাপনার সুযোগ নেই; বাধা দেওয়ার পরও কাজ চলছে, আর এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। বন বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, এ বন চিত্রা হরিণ, মায়া হরিণ, সংকটাপন্ন পাহাড়ি কচ্ছপ, মুখপোড়া হনুমান ও অজগরের আবাস; সড়ক হলে বন্য প্রাণীর চলাচল বাধাগ্রস্ত হবে এবং শতবর্ষী গাছ কাটা পড়বে।
বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন-২০২৬-এর ৭ ধারা অনুযায়ী প্রাকৃতিক বন বনবহির্ভূত কাজে ব্যবহার করা যাবে না। বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর কবির বলেন, বিদ্যমান আইনে সংরক্ষিত বনের ভেতর সড়ক করার সুযোগ নেই, আর তা হলে বন উজাড়ের সুযোগ বাড়বে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর কক্সবাজার প্রতিনিধি মোস্তফা ইউসুফের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)