ফসলের মাঠে কাজ করা রোবট—আগাছা বাছাই, কীটনাশক স্প্রে, ফসল তোলা, চালকবিহীন ট্রাক্টর ও মাঠ পর্যবেক্ষণের যন্ত্র—তৈরির প্রতিযোগিতা বাড়লেও এই প্রযুক্তি এখনও শুরুর পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি ও খাদ্য উদ্ভাবন কেন্দ্র দ্য মিক্সিং বোল (The Mixing Bowl)। সংস্থাটির ২০২৬ সালের ক্রপ রোবোটিকস ল্যান্ডস্কেপ প্রতিবেদনে ১৫টি ভাগে মোট ৪০০টি কোম্পানির নাম এসেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেশি।
এই রোবট চাষির কোন সমস্যা মেটায়, প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট: শ্রমিকের অভাব, উপকরণের বাড়তি খরচ আর ফসল সুরক্ষা রাসায়নিকের ওপর কড়াকড়ি। ক্যামেরা ও কম্পিউটার ভিশন দিয়ে যন্ত্র আগাছা আর ফসল আলাদা করে চিনতে পারে, আর সেভাবেই নির্দিষ্ট জায়গায় স্প্রে বা আগাছা দমন করে।
সংখ্যার আড়ালে বড় রদবদলও আছে। দ্য মিক্সিং বোলের অংশীদার ক্রিস টেলর (Chris Taylor) জানান, আগের তালিকার প্রায় ২০ শতাংশ কোম্পানি এবার নেই, আর নতুন তালিকার এক-তৃতীয়াংশের বেশি কোম্পানি একেবারে নতুন। স্টার্টআপগুলোর জন্য খাতটি খুবই প্রতিযোগিতামূলক ও কঠিন বলে মনে করেন টেলর। ২০২২ সালে প্রথম প্রকাশিত এই তালিকায় নার্সারি ও ফসল-পরবর্তী কাজের রোবট ধরা হয়নি।
তালিকার অর্ধেক কোম্পানি ইউরোপের। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র এগিয়ে, মোটের ১৮ শতাংশ; এর ৪০ শতাংশের বেশি ক্যালিফোর্নিয়ায়। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। ২০২১ সালের শীর্ষ অবস্থানের চেয়ে বিনিয়োগ অনেক কম হলেও তা স্থিতিশীল রয়েছে।
স্প্রে ও আগাছা দমনের রোবটেই বিনিয়োগ ও বিক্রি সবচেয়ে বেশি। ওয়েস্টার্ন গ্রোয়ার্সের বেন প্যালোন (Ben Palone) বলেন, আগাছা দমনের রোবট এখন কৃষকের ব্যবহারের পর্যায়ে ঢুকছে। বড় যন্ত্র নির্মাতারাও এ খাতে ঢুকছে: কুবোটা এ বছর নির্ভুল স্প্রেয়ার নির্মাতা কিল্টারে বিনিয়োগে নেতৃত্ব দিয়েছে, আর ডিয়ার ২০২৫ সালে আধা-স্বয়ংক্রিয় স্প্রেয়ার নির্মাতা গাস কিনে নিয়েছে। বনসাই রোবোটিকস কিনেছে ফার্ম-এনজি, ফার্মএক্স কিনেছে অ্যামোস পাওয়ার। টেলরের মতে, এসব অধিগ্রহণ বাজার পরিণত হওয়ার লক্ষণ নয়, বরং প্রাথমিক বাজারে পুঁজি ও মেধা এক জায়গায় জড়ো হওয়ার লক্ষণ।
সবচেয়ে কঠিন কাজ এখনও ফসল তোলা। যন্ত্রকে ফসল চিনতে হয়, গাছের পাতার ভেতরে তা খুঁজে পেতে হয় এবং ফল বা সবজি না থেঁতলে তুলতে হয়—আর সমাধানটি প্রায়ই একেক ফসলের জন্য আলাদা। টেলর বলেন, আগাছা আর ফসল আলাদা করে চেনার কম্পিউটার ভিশন প্রায় এক দশক ধরেই আছে; কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বড় সুফল আসবে দ্রুত যন্ত্র তৈরি, নানা খামারে দ্রুত ব্যবহার এবং আগাম অনুমান করতে পারা যন্ত্রের মাধ্যমে। প্রতিবেদনটি নিয়ে লিখেছেন এজিফান্ডনিউজের জেনিফার মার্স্টন।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)