নারীর শরীরে হরমোনের ওঠানামা একটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া, বিশেষ করে মাসিক চক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে। ডেইলি বাংলাদেশে লেখা এক নিবন্ধে ফিটনেস পুষ্টিবিদ রাইসা মেহজাবীন ব্যাখ্যা করেছেন, এই পরিবর্তন শুধু প্রজননব্যবস্থায় সীমাবদ্ধ নয়; কারও কারও ক্ষুধা, খাবারের আকাঙ্ক্ষা, মেজাজ, ঘুম ও দৈনন্দিন শক্তিতেও তা টের পাওয়া যায়।
তিনি লিখেছেন, চক্রের মাঝামাঝি ইস্ট্রোজেনের একটি নির্দিষ্ট মাত্রার বৃদ্ধি এলএইচ হরমোনের আকস্মিক বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত, যা সাধারণত ডিম্বস্ফোটন ঘটায়। চক্রের দ্বিতীয়ার্ধে প্রোজেস্টেরন বাড়ে, আর গর্ভধারণ না হলে হরমোনের মাত্রা আবার কমে যায়।
ব্যায়ামের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে আলাদা। কেউ নির্দিষ্ট সময়ে বেশি ক্লান্তি বা অস্বস্তি বোধ করেন, অনেকের কোনো পরিবর্তনই হয় না। তাই চক্রের নির্দিষ্ট পর্যায়ের জন্য সবার জন্য একই ব্যায়াম বা খাবারের নিয়ম বেঁধে দেওয়া বিজ্ঞানসম্মত নয় বলে মত তাঁর; নিজের উপসর্গ, শক্তি ও ঘুমের দিকে নজর রাখাই বেশি জরুরি।
২৮ দিনের চক্রকে প্রায়ই আদর্শ ধরা হলেও সবার চক্র ২৮ দিনের হয় না; বয়স ও ব্যক্তিভেদে, এমনকি একই মানুষের ক্ষেত্রেও সময়ে সময়ে দৈর্ঘ্য বদলায়। ক্ষুধা, ঘুম, মেজাজ বা ব্যায়ামের সক্ষমতায় নিয়মিত পরিবর্তন নোট করে রাখলে নিজের শরীরের ধরন বোঝা সহজ হয়।
তবে অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, অস্বাভাবিক রক্তপাত, দীর্ঘদিন অনিয়মিত মাসিক কিংবা দৈনন্দিন জীবনে বড় সমস্যা হলে তা শুধু হরমোনের স্বাভাবিক ওঠানামা ভেবে বসে না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলেছেন লেখক।
সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ



মন্তব্য
(০)