মেহেরপুরের দুটি সরকারি মৎস্য হ্যাচারি বহু বছর ধরে বন্ধ। গাংনী উপজেলার হ্যাচারিটি প্রায় ২০ বছর উৎপাদনের বাইরে, জেলা সদরেরটিও দীর্ঘদিন বন্ধ। ফলে জেলার মাছচাষিদের পোনা আনতে হচ্ছে বাইরের জেলা থেকে, তাতে খরচ বাড়ছে আর ভালো পোনার অভাবে লাভ কমছে।
স্থানীয় উদ্যোক্তা ও রেণু-পোনা ব্যবসায়ীদের ভাষ্যে, গাংনীর হ্যাচারি ১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চালু ছিল, তখন সেখানে নানা প্রজাতির রেণু-পোনা উৎপাদন হতো, যা মেটাত স্থানীয় চাহিদা, যেত চুয়াডাঙ্গা-কুষ্টিয়াতেও। এখন হ্যাচারিগুলো পরিত্যক্ত, পোনা উৎপাদনের যন্ত্রপাতি খোয়া গেছে, খামারের জমি বেদখলের অভিযোগও আছে।
জেলা মৎস্য বিভাগের হিসাবে সদরে ১ হাজার ৮২৯টি, গাংনীতে ৩ হাজার ৯৯৫টি আর মুজিবনগরে ৬১৪টি, মোট ৬ হাজার ৪৩৮টি চাষযোগ্য পুকুর, এর বাইরে ১৬টি উন্মুক্ত জলাশয়। এসব পুকুরের পোনা এখন আসে যশোর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ ও সান্তাহারের হ্যাচারি থেকে। দূরের পথে পরিবহন খরচ বাড়ে, পোনা মারা যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে, আর সময়মতো পোনা না পেয়ে অনেক খামারির উৎপাদন পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। মৎস্য অধিদপ্তর নিজেও প্রতিবছর সরকারি টাকায় বাইরে থেকে লাখ টাকার বেশি পোনা কিনে পুকুরে ছাড়ে।
মৎস্য বিভাগ বলছে, হ্যাচারি বন্ধ থাকার পেছনে লোকবল সংকট, যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়া আর উৎপাদন অলাভজনক হওয়ার মতো কারণ আছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, জেলায় মাছ চাষ বাড়লেও মানসম্মত পোনার জন্য এখনো বাইরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। মোট চাষযোগ্য পুকুরের প্রায় ৬২ শতাংশই গাংনীতে, তাই সেখানকার হ্যাচারিসহ সরকারি হ্যাচারিগুলো সচল হলে পোনা সরবরাহে বড় পরিবর্তন আসবে। সদরের হ্যাচারিটি আগামী বছর উৎপাদনে ফেরানোর প্রস্তুতি চলছে, এতে বাইরের নির্ভরতা, পরিবহন খরচ আর পোনা মরার ঝুঁকি কমবে বলে জানান তিনি। প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের মেহেরপুর সংবাদদাতার।
ছবি: Syed Sajidul Islam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)