সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা৩৩°মূলত পরিষ্কারআর্দ্রতা ৫৯%বাতাস কিমি/ঘ

সগৌরবে টিকে থাকুক দেশীয় ফল

নিয়ামুর রশিদ শিহাব

পরিবেশ

নিয়ামুর রশিদ শিহাব

মাত্র দুই দশকের ব্যবধানে আমাদের দেশের অর্ধশতাধিক দেশি ফল হুমকির মুখে। এতে দেশীয় ফলের স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও বৈচিত্র্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে জনগণ। প্রাকৃতিক, মানবসৃষ্ট ও বিদেশি ফলে বাজার সয়লাবের কারণে এমনটি হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

জানা গেছে, জনসংখ্যার ক্রমাগত বৃদ্ধিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণে নির্বিচারে ফলের গাছ কাটা, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইত্যাদিকে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় ফলের গাছ হারিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দায়ী করছেন কৃষিবিদরা। এ ছাড়া বিদেশি ফলের আমদানিও দেশি ফলের উৎপাদন হ্রাস ও হারিয়ে যাওয়ার জন্য অনেকখানি দায়ী বলে অভিমত তাদের।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের তথ্যমতে, বৈশাখ থেকে শ্রাবণ-এ চার মাসেই পাওয়া যায় শতকরা ৫৪ শতাংশ দেশি ফল। বছরের আট মাসে পাওয়া যায় ৪৬ শতাংশ। বর্তমানে দেশে প্রধান ও অপ্রধান মিলিয়ে দেশি ফলের সংখ্যা প্রায় ৬০-৭০টি। এগুলোর মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, জাম, গোলাপজাম, নারিকেল, কুল, তৈকর, বিচিকলা, বিলিম্বি, বেতফল, লেবু, আমলকি, সফেদা, আতা, শরিফা, কাঁচা কলা, ডালিম, জাম্বুরা, সুপারি, বাঙ্গি, তরমুজ, বকুল, বেল, কামরাঙ্গা, জলপাই, চালতা, ডেউয়া, পেঁপে, তেঁতুল, তাল, বেল, গাব, পানিফল, কদবেল, আনারস, খেজুর, জামরুল, কলা, লটকন, আনার, আমড়া, কমলা, অরবরই, সাতকড়া, লুকলুকি, তরমুজ, চুকুর, প্যাসনফল, আঁশফল, মাখনা, আধাজামির, পিচফল, ফসলা, জগডুমুর, কাজুবাদাম, ডুমুর, কাউফল, করমচা, পানিয়ালা, জামির, বৈচি, মুনিয়া, ডেফল, চাম্বুল উল্লেখযোগ্য।

আরও পড়ুন: বেড়েছে তরমুজ চাষ, ভালো বিক্রির আশা কৃষকের

এসবের মধ্যে কাউফল, করমচা, ডেউয়া, আঁশফল, গাব, জগডুমুর, চাম্বুল, আতাফল, ডুমুর, চালতা, অরবরই, বিলিম্বি, শরিফা, সাতকরা, তৈকর, ডেফল, লুকলুকি, বৈচি, মুনিয়া কোনো রকমে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এগুলো গ্রামে দেখা গেলেও শহরে দেখাই যায় না।

কৃষিবিদদের মতে, কৃষিপ্রধান ও উর্বর মাটির গ্রামগঞ্জে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ধরনের ফলগাছের সংখ্যা ছিল শতাধিক। তবে নানা কারণে গত দুই দশকের ব্যবধানে এ সংখ্যা নেমে এসেছে অর্ধশতকে। বর্তমানে দেশে ফলের বাজারের শতকরা ৮০ ভাগ দখলে নিয়েছে আমদানি করা বিদেশি ফল। এসব ফলের মধ্যে আপেল, কমলা, আঙুর, খেজুর, বেদানা, মাল্টা, স্ট্রবেরি, ড্রাগন, নাশপাতি উল্লেখযোগ্য। এসব কেমিক্যাল মেশানো ফল খেয়ে স্বাস্থ্যঝুঁঁকি যেমন বাড়ছে; তেমনি তৈরি হচ্ছে পুষ্টিঘাটতিজনিত সমস্যা।

চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিকভাবে এসব ফল খেয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব দেখা যায় না। তবে পরে তা লিভার সিরোসিস, কিডনি বিকল, মেমব্রেনসহ শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা রোধ, কঠিন ও জটিল রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসেরও কারণ হতে পারে কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল। কেমিক্যাল মিশ্রিত ফল শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই তৈরি করছে না, পুষ্টিঘাটতিও সৃষ্টি করছে।

আরও পড়ুন: বরই চাষে ৫ লাখ টাকা আয় করেন আজাদুর

দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর পুষ্টিচাহিদা পূরণ ও খাদ্য নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে দেশি ফলের উৎপাদন বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি কৃষি বিভাগকেও দেশীয় ফলের উৎপাদন ও সম্প্রসারণে আরও অগ্রাধিকার দিতে হবে। তাহলেই সগৌরবে টিকে থাকবে দেশীয় ফল।

লেখক: শিক্ষার্থী, কম্পিউটার বিভাগ, বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

পরিবেশ

সম্পর্কিত খবর

পরিবেশ

বাম্পার ফলনেও লোকসানের হিসাব কষছেন চাষীরা

ধান-চালে সমৃদ্ধ উত্তরের জেলা নওগাঁয় আউশ ধান কাটা মাড়াইয়ে ব্যস্ততা বেড়েছে চাষীদের। অনুকূল আবহাওয়ায় কাঙ্খিত ফলন পেয়ে খুশি তারা। তবে কৃষকের মুখের সেই হাসি মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যাচ্ছে দামের কারণে।

জাগো নিউজ ২৪১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬৪ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

টেংরাগিরি ও নলবুনিয়া বন থেকে চার দিনে ৯০০ গাছ কেটে নিল দুর্বৃত্তরা

বরগুনার তালতলীর সংরক্ষিত টেংরাগিরি ও নলবুনিয়া বন থেকে চার দিনে প্রায় ৯০০ গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে; এলাকাবাসী বন বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রশ্রয়ের অভিযোগ তুলেছেন, আর উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে।

সমকাল১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

বলিভিয়ার বনে নতুন প্রজাতির বনবিড়াল, ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত

বলিভিয়ার একটি উদ্ধারকেন্দ্রে থাকা ১০ বছর বয়সী একটি ছোপযুক্ত বিড়াল ডিএনএ বিশ্লেষণে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি বলে প্রমাণিত হয়েছে, যার নাম রাখা হয়েছে Leopardus tilcayo।

বিবিসি বাংলা১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()