ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চাপুলিয়ায় মধুমতি নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের ঘরবাড়ি। শেষ সম্বল হারিয়ে অনেক পরিবার এখন খোলা আকাশের নিচে।
২০১১-১২ অর্থবছরে চাপুলিয়ার সরকারি খাসজমিতে ১৩০টি পরিবারের জন্য গুচ্ছগ্রামটি নির্মাণ করা হয়। তখন নদী ছিল প্রায় এক কিলোমিটার দূরে; ২০২১ সাল থেকে মধুমতির ভাঙন শুরু হলে ধীরে ধীরে প্রকল্পের ঘরবাড়ি নদীতে চলে যায়। বাসিন্দাদের অনেকেই আগে থেকে ভূমিহীন ও গৃহহীন ছিলেন; সরকারি উদ্যোগে পাওয়া মাথা গোঁজার ঠাঁইও হারিয়ে এখন কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে, কেউ রাস্তার পাশে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মধুমতি থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় নদীর গতিপথ বদলে তীব্র স্রোত তৈরি হয়েছে, আর তাতেই ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত শনিবার নদীর তীরে স্থানীয় তরুণ আকিব আহমেদের আহ্বানে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়; বক্তারা বলেন, পাশের নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ড্রেজার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু তুলছেন। দাবি তিনটি: অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, স্থায়ী নদী প্রতিরক্ষা বাঁধ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দ্রুত পুনর্বাসন।
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান বলেন, অসহায় মানুষগুলোর চোখের সামনে ঘরবাড়ি হারিয়ে গেছে; তাদের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসন দরকার। ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মজিবর রহমান জানান, এলাকাটি রক্ষায় প্রকল্প নেওয়া হয়েছে এবং স্টাডি রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে; দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের কথা—শুধু সাময়িক সহায়তা নয়, ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধে দ্রুত বাঁধ নির্মাণ ও বিলীন হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ চাই।
নদী থেকে এক কিলোমিটার দূরের একটি বসতি দশ বছরে নদীতে চলে যাওয়া দেখায়, বালুমহাল ব্যবস্থাপনা কেবল রাজস্বের বিষয় নয়—তীরের কৃষিজমি ও গ্রামের অস্তিত্বের প্রশ্ন।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)