শহরের অনেক পরিবারে সপ্তাহে দুই-তিন দিন মাংস, আর মাছের সঙ্গে ডাল, ভাজি বা ভর্তা রান্না হতো; ছুটির দিনে বা মেহমান এলে আয়োজন বাড়ত। এখন বাজারের খরচের সঙ্গে এলপিজির দামও হিসাব করতে হচ্ছে, আর একই বাজেটে সংসার চালাতে অনেক পরিবার প্রথমেই কাটছাঁট করছে খাবারের তালিকায়।
রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা থেকে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা করেছে। অথচ শনিবার পর্যন্ত নির্ধারিত দামের সিলিন্ডার বাজারে অনেক ক্ষেত্রেই ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
কেরানীগঞ্জের রিনা আক্তার জানান, আগে সপ্তাহে দু-তিন দিন মাংস রান্না হতো, এখন আগের মতো কয়েক পদ একসঙ্গে রান্না করেন না। উত্তরার রিপা খন্দকার বলেন, আগে চার-পাঁচ পদ হলেও এখন ভাত ছাড়া দুই পদ রান্না করাই কঠিন। ফরিদপুরের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিজানুর রহমানের হিসাবে বিইআরসির দামের চেয়ে অন্তত ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়।
গ্যাসের খরচ কমাতে রান্নার ধরনও বদলাচ্ছে। দুপুরের রান্না দিয়ে রাতের খাবার চালানো হচ্ছে, কেউ সকালে রান্না করে সারা দিনের খাবার রেখে দিচ্ছেন। বনশ্রীর হিমি আহমেদ বলেন, এখন একবার রান্না করে দুই বেলা খান এবং দ্রুত রান্না হয় এমন খাবার বেছে নেন। বাসাবোর এক গৃহিণী বিকেলের নাশতা বানানো বন্ধ করে বিস্কুট, মুড়ি, চানাচুর বা বাকরখানিতে চালাচ্ছেন।
মেহমানদারিও ছোট হয়েছে। শান্তিনগরের এক গৃহিণী জানান, আগে মেহমান এলে টেবিল ভরে যেত, এখন পোলাও, রোস্ট আর একটি মিষ্টি দিয়েই আপ্যায়ন শেষ করার চেষ্টা করেন। কয়েক দিনের সরবরাহ সংকট কেটে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও নতুন দামে স্বস্তি ফেরেনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সেপ্টেম্বরের তুলনায় অক্টোবরে প্রোপেন-বিউটেনের গড় দাম টনপ্রতি ৬৪৭ দশমিক ৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭১২ দশমিক ৫০ ডলার হয়েছে, আর জাহাজ ভাড়া ও প্রিমিয়াম ১৬০ থেকে বেড়ে ২৫০ ডলার। বড় চার কোম্পানির হাতে বাজারের ৭০ শতাংশ থাকায় কেউ সরবরাহ কমালে সংকট তীব্র হয়; সংকটের সুযোগে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা বেশি দাম নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ আছে।
প্রতিবেদনটি করেছেন বাংলা ট্রিবিউনের সঞ্চিতা সীতু।
ছবি: Mubinctg / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)