সেপ্টেম্বরে সরকার ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করলেও দেশের অন্তত ১৩ জেলায় প্রতিটি সিলিন্ডারে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, কোথাও বাড়তি দামেও মিলছে না। সমকালের অনুসন্ধানে এ চিত্র উঠে এসেছে। দেশে বছরে এলপিজির চাহিদা ১৭ থেকে ১৮ লাখ টন, নির্ভরশীল প্রায় এক কোটি গ্রাহক, আর চাহিদার ৮০ শতাংশই যায় বাসাবাড়ির রান্নায়।
ঢাকার ধামরাইয়ের কালামপুরের লিটন মিয়া ২ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে সাত দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাননি। একই গ্রামের আনিছুর রহমান পাঁচ দোকান ঘুরে কিনেছেন ২ হাজার ৩৫০ টাকায়। ধামরাইয়ের ইউএনও মো. আল মামুন জানান, বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে দুই দিনে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রাজধানীতে দাম উঠেছে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা।
জেলাগুলোর চিত্রও কাছাকাছি। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে এক কৃষিজীবী ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনেছেন ২ হাজার ৩০০ টাকায়; বেলকুচিতে তালিকায় নির্ধারিত দাম টাঙিয়েও ২১৫ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ। রাজবাড়ীতে দাম ১ হাজার ৮০০ থেকে ১ হাজার ৯০০ টাকা, মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৯৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা। কুড়িগ্রামে প্রায় এক মাস ধরে তিনটি ব্র্যান্ডের সরবরাহ নেই বলে ব্যবসায়ীদের দাবি। নরসিংদী, খুলনা, বরগুনা, নাটোর, দিনাজপুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, লালমনিরহাট ও নওগাঁতেও একই রকম অভিযোগ মিলেছে।
অথচ সরকারি হিসাবে আগস্টে প্রায় ১ লাখ ৫৭ হাজার টন এবং সেপ্টেম্বরে প্রায় ১ লাখ ৫৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। বাজারের প্রায় ৯৯ শতাংশ বেসরকারি খাতের হাতে, চারটি কোম্পানির হাতেই প্রায় ৬৮ শতাংশ। ডিলার ও ডিস্ট্রিবিউটরদের অভিযোগ, অপারেটররা প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ সীমিত রাখছে, কখনো বেশি দামে বিক্রি করছে। এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (লোয়াব) সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হকের দাবি, আমদানি কমেনি; খুচরা পর্যায়ে মজুতের কারণে সমস্যা হতে পারে, আর কোনো অপারেটরের বিরুদ্ধে প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও সমুদ্রপথে বিঘ্নে পরিবহন খরচ বেড়েছে, অনেকে চুক্তির চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম কার্গো পাচ্ছেন। বিইআরসি দাম ঠিক করার সময় টনপ্রতি ১৬০ ডলার প্রিমিয়াম ধরলেও তা এখন ২৬০ থেকে ৪০০ ডলারে উঠেছে বলে তাঁদের দাবি।
কৃত্রিম সংকট আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও বিএসটিআইয়ের কার্যকর নজরদারি ছাড়া পরিস্থিতি সামলানো কঠিন।
প্রতিবেদনটি সমকালের প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিদের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: সমকাল




মন্তব্য
(০)