আল খোমস বন্দর থেকে ২০ বছরের বেশি সময় ধরে মাছ ধরছেন ফারাজ আবদেলসাদিক। তিনি বলছেন, এমন খারাপ অবস্থা আগে কখনো দেখেননি। একসময় এক যাত্রায় আয় হতো ১ হাজার থেকে ২ হাজার লিবীয় দিনার (১৫৬ থেকে ৩১২ মার্কিন ডলার), এখন কখনো ৩০০ দিনারও হয় না। ৪৬ বছর বয়সী এই জেলে ডায়ালগ আর্থের প্রতিবেদক ইসলাম আলাত্রাশকে বলেন, "মাছের মজুত কমেছে, আর ট্রলারগুলো গভীর পানিতে কাজ করে আমাদের জন্য প্রায় কিছুই রাখে না।"
লিবিয়ার উপকূল প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ, মাছ ধরার নৌযান সাড়ে তিন হাজারের বেশি, যার ৯০ শতাংশের বেশি ৫ থেকে ১২ মিটারের ছোট নৌকা। এসব নৌকার মালিকেরা প্রতিদিন উপকূল থেকে ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে জাল, বড়শি ও ফাঁদ দিয়ে লাল মুলেট, সি ব্রিম ও গ্রুপার মাছ ধরেন, বেশির ভাগ ৫০ মিটারের কম গভীরতায়। গভীর সাগরে তাঁরা যেতে পারেন না, তবু তাঁদের অভিযোগ, দূরের শিল্প ট্রলিং তাঁদের সাগরও খালি করে দিচ্ছে।
দক্ষিণ সিসিলি ও উত্তর লিবিয়ার মাঝে ৪০০ থেকে ৮০০ মিটার গভীর সাগরতলে আছে দামি বড় লাল চিংড়ির বিচরণক্ষেত্র, যেখানে বহু বছর ধরে মাছ ধরছে ইতালির মাজারা দেল ভাল্লো বন্দরের দূরপাল্লার ট্রলার। ২০১১ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণের সময় এমন প্রায় ৪০টি ট্রলার লিবিয়ার উপকূলে কাজ করেছে, কোনো কোনোটি দিনে ৩০০-৩৫০ কেজি লাল চিংড়ি তুলেছে। ২০২৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, সাত মাসের অবাধ শিকারে বহু বছরে গড়ে ওঠা মজুত ফুরিয়ে যায়। ২০২৩-২০২৫ সালের নৌযান অনুসরণের তথ্য ও নিবন্ধন যাচাই করে মেড মোজাইক অনুদান ও ডায়ালগ আর্থ লিবিয়ার পানিতে ইতালীয় পতাকাবাহী ১২টি নৌযানের তৎপরতা পেয়েছে, যাদের লিবীয় অনুমতির কোনো প্রকাশ্য প্রমাণ মেলেনি।
ট্রলের জাল সাগরতলের ঠান্ডা পানির প্রবাল ও স্পঞ্জ ভেঙে দেয়, পলি ঘোলা করে, নষ্ট করে এমন আবাস, যেখানে মাছ খায়, ডিম পাড়ে ও বড় হয়, যে মাছ পরে অগভীর পানিতে জেলেদের জালে ওঠে। কিছু ট্রলার সরাসরি লাল মুলেটও ধরে। লিবিয়ার ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী বন্ধু সমিতির প্রধান ইসমাইল আল-শাকমান চান, সামুদ্রিক সম্পদ মন্ত্রণালয়, পরিদর্শক ও কোস্টগার্ড লাইসেন্সবিহীন শিকার ও নিষিদ্ধ সরঞ্জামের নিয়ম কঠোরভাবে প্রয়োগ করুক।
২০০৫ সালে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলো ১ হাজার মিটারের বেশি গভীরে বটম ট্রলিং নিষিদ্ধ করে; সেই বছরই লিবিয়া উপকূল থেকে ৭৪ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মৎস্য সংরক্ষণ অঞ্চল ঘোষণা করে। পরিবেশ সংগঠন ওশেনা ও মেডরিঅ্যাক্ট এখন ৮০০ মিটারের নিচের সব পানিতে নিষেধাজ্ঞা চায়; তাদের মতে এতে আর্থিক ক্ষতি সামান্য, কিন্তু প্রবাল ও স্পঞ্জের আবাস রক্ষা পাবে। মিসর একটি পরীক্ষামূলক সমীক্ষার পর ৮০০ মিটারের বেশি গভীরে বটম ট্রলিং নিষিদ্ধ করা শুরু করেছে, যেখানে দেখা গিয়েছিল ওই গভীরতার মাছ মোট আহরণমূল্যের ২ শতাংশেরও কম। তিউনিসিয়া বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। লিবিয়ার সামুদ্রিক সম্পদ উপমন্ত্রী সাবের আল-আজাবি জানান, বিদেশি নৌযানের অনুপ্রবেশ কমলেও চলছে, এবং ৮০০ মিটারের নিচে নিষেধাজ্ঞা বাড়াতে লিবিয়ার আপত্তি নেই।
দুর্বল জায়গা নজরদারি। আফ্রিকান ইউনিয়নের ২০২৫ সালের এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, লিবিয়ার নৌযান পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা সীমিত, অবতরণ কেন্দ্রে নিয়মিত পরিদর্শন নেই। মিসরাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞানী আবদেলমাজিদ মিলিতান বলেন, "যা মাপি না, তা রক্ষা করতে পারি না।" তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানচিত্র, নিয়মিত মজুত জরিপ এবং কোন নৌযান কোথা থেকে মাছ ধরল তা শনাক্তের ব্যবস্থা চান। প্রতিবেদনটি মেড মোজাইক ওশান লিটারেসি অনুদানের সহায়তায় তৈরি।
ছবি: Elmabro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Dialogue Earth





মন্তব্য
(০)