দুই বিদেশি পক্ষীবিদ গ্যারি অলপোর্ট ও জ্যান-এরিক নিলসন ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের সোনাদিয়ায় প্রথমবারের মতো এক সামুদ্রিক পাখির সন্ধান পান, যা এ দেশের পাখির তালিকায় নতুন যোগ হওয়া বিরল ভবঘুরে প্রজাতি। এর কোনো বাংলা নাম নেই; ইংরেজি নাম লেসার নডির অনুবাদে একে ছোট নডি বলা যায়।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাখি ও বন্য প্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ আ ন ম আমিনুর রহমান প্রথম আলোয় লিখেছেন, সে বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর পাখিটির খোঁজে গিয়ে মহেশখালী চ্যানেলে না পেয়ে তাঁরা যান সোনাদিয়ার বেলেকেরদিয়া চরে। অধ্যাপক মনিরুল খান বাইনোকুলারে কালচে পাখিটি শনাক্ত করেন, আর দেড় ঘণ্টা ধরে তিনটি পাখির ছবি তোলা ও ভিডিও করা হয়।
পাশেই জেলেরা মাছ ধরছিলেন, আর মাছের আশায় পাখিগুলো তাঁদের সঙ্গ ছাড়ছিল না। গভীর সমুদ্রের পাখি বলে মানুষের সান্নিধ্যের অভিজ্ঞতা কম, তাই হয়তো ভয়ও কম, লিখেছেন তিনি।
ল্যারিডি গোত্রের এই পাখির বৈজ্ঞানিক নাম Anous tenuirostris। প্রাপ্তবয়স্ক পাখি ৩০ থেকে ৩৪ সেন্টিমিটার লম্বা, ওজন ৯৭ থেকে ১২০ গ্রাম; দেহ কালচে-বাদামি, কপাল ও মাথা সাদাটে ধূসর, ঠোঁট কালো, লম্বা ও অত্যন্ত সরু। এরা ভারত মহাসাগরের উপকূল, প্রবালপ্রাচীর ও খোলা সমুদ্রে থাকে, মাছের ঝাঁকের সঙ্গে উড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ছোট মাছ ও স্কুইড তুলে খায়।
প্রজননকালে এরা সিসিলি, চাগোস, মালদ্বীপ, মরিশাসসহ পশ্চিম ভারত মহাসাগরের দ্বীপে যায়, বড় উপনিবেশে ১০ হাজার জোড়া পর্যন্ত একসঙ্গে থাকে। একটিমাত্র ডিম পাড়ে, স্ত্রী-পুরুষ মিলে ৩৪ থেকে ৩৫ দিন তা দেয়; ছানা ৫৫ থেকে ৭০ দিনে উড়তে শেখে। আয়ু প্রায় ১৭ বছর।
ছবি: আ ন ম আমিনুর রহমান
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)