ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের ছিটাল পাড়া গ্রামে হলুদ ফুলে ছাওয়া মহাভৃঙ্গরাজ লতায় নানা প্রজাতির প্রজাপতির ভিড়ের মধ্যে খয়েরি রঙের মাঝারি আকারের এক প্রজাপতির ছবি তুলেছেন পাখি ও বন্যপ্রাণী প্রজনন ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. আ ন ম আমিনুর রহমান। দেশ রূপান্তরে তিনি লিখেছেন, প্রজাপতিটি পিঙ্গল শিখীপর্ণ; পশ্চিমবঙ্গে একে উষুম বলে।
২৩ সেপ্টেম্বর পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পোলট্রি খাতের একটি উপ-প্রকল্পের ভিত্তি জরিপ তদারকিতে পিদিম ফাউন্ডেশনের পরামর্শক হিসেবে তিনি ভালুকায় যান। লেয়ার, ব্রয়লার ও কোয়েল-তিতির খামার ঘুরে ফেরার পথে কাকের মোড়ে লতাটির পাশে তাঁর চোখে পড়ে প্রজাপতির মেলা। পথে তিনি মাছের খামার, আখ ও ধানখেত, হলুদ ও কলাবাগান আর টিকে থাকা পত্রঝরা বনও দেখেছেন।
নিম্ফালিডি গোত্রের এই প্রজাপতি বাংলাদেশসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় দেখা যায় এবং এ দেশে সচরাচর দৃশ্যমান ও স্বল্প ঝুঁকিসম্পন্ন। ডানা মেললে বিস্তার ৪৫ থেকে ৬০ মিলিমিটার। দেহ ও ডানার ওপরটা গাঢ় বাদামি, নিচটা হলদে-বাদামি; প্রতিটি ডানায় ময়ূরের পেখমের মতো দুটি করে লেবু-হলুদ চোখফুটকি। স্ত্রী ও পুরুষ দেখতে প্রায় একই, তবে স্ত্রী কিছুটা ফ্যাকাশে।
বন থেকে সমতল, দেশের সব জায়গায় এর দেখা মেলে। এটি মাটির কাছাকাছি দ্রুত ও সোজা উড়ে, ফুলের রস খেতে ভালোবাসে। কাঁটাজন্তি ও লাল বেরেলার মতো গাছ এর পোষক উদ্ভিদ; স্ত্রী প্রজাপতি পাতার নিচে একটি করে ছোট সবুজ পিপার মতো ডিম পাড়ে।
লেখকের বর্ণনায়, ডিম ফুটতে প্রায় তিন দিন লাগে। কাঁটাওয়ালা শুককীট বিপদে পড়লে বলের মতো গুটিয়ে যায় এবং ১২ থেকে ১৯ দিনে পাঁচবার খোলস বদলে মূককীটে পরিণত হয়। বাদামি রেখায় ঢাকা মূককীট চারপাশের সঙ্গে মিশে শত্রু থেকে বাঁচে, আর ৬ থেকে ১৫ দিন পর বেরিয়ে আসে পূর্ণাঙ্গ প্রজাপতি। পুরো জীবনচক্র শেষ হয় ২০ থেকে ৩৫ দিনে।
লেখক জানান, পাহাড়, সমতল কিংবা ঢাকা বিমানবন্দর, যেখানেই তিনি মহাভৃঙ্গরাজ লতা দেখেছেন, সেখানেই ফুলে ফুলে রস খাওয়া প্রজাপতির মেলা দেখেছেন।
সূত্র: দেশ রূপান্তর



মন্তব্য
(০)