ইটভাটার নতুন মৌসুম সামনে রেখে বান্দরবানের লামা উপজেলায় আবার পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে দৈনিক জনকণ্ঠ। পাহাড় কাটা, অবৈধ মাটির ব্যবসা, আবাসন প্রকল্প আর নিচু জমি ভরাটে বনাঞ্চল ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
পরিবেশ সংগঠনগুলোর হিসাবে লামা ও আশপাশে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত মিলিয়ে প্রায় ৪০টি ইটভাটা আছে। শুধু ফাইতং ইউনিয়নের কয়েক বর্গকিলোমিটারের মধ্যেই ৩০টির বেশি ভাটা, যার বড় অংশ পরিবেশ ছাড়পত্র ও বৈধ অনুমোদন ছাড়া চলছে।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিটি ইটভাটায় এক মৌসুমে ৩০ থেকে ৫০ লাখ ঘনফুট কাঁচা মাটি লাগে, যার বেশির ভাগ আসে আশপাশের পাহাড় থেকে। এক হিসাবে শুধু ফাইতং ও আশপাশে এক মৌসুমে গড়ে এক থেকে দেড় কোটি ঘনফুট পাহাড়ি মাটি কাটা হয়। প্রশাসনের নজর এড়াতে রাতে ও ভোররাতে এক্সকাভেটর চালানো হয়, দিনে কাটা অংশ ত্রিপল বা চট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়; রাতে শত শত ড্রাম ট্রাক ও ট্রলিতে মাটি সরানোয় গ্রামের সড়কও নষ্ট হচ্ছে।
পাহাড় খাড়াভাবে কেটে নেওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে ধসের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। পাহাড়ি ঝিরি ও পানির প্রাকৃতিক উৎস মাটিতে ভরাট হয়ে অন্তত ১৫-২০টি পাড়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, হারিয়ে যাচ্ছে বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণীর আবাস।
স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ হোসেন বলেন, মাটি কাটায় বাধা দিয়ে কয়েকবার স্থানীয়রা বিপদে পড়েছেন, তাই ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। লামা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামের ভাষায়, একটি পাহাড় তৈরি হতে হাজার বছর লাগে, অথচ ইটভাটার জন্য কয়েক দিনেই তা সমান করে ফেলা হচ্ছে।
গত ৮ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট লামায় অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধে তিন দিনের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এরপর কিছু জায়গায় তৎপরতা দেখা গেলেও পাহাড় কাটা থামেনি। লামার ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী ঝটিকা অভিযান চলছে, জরিমানা ও মামলা হচ্ছে এবং তদারকির জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে; জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ




মন্তব্য
(০)