কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চলতি বছরের প্রথম আট মাসে পশুর কামড় বা আঁচড়ে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী (র্যাবিস) টিকা ও চিকিৎসা নিয়েছেন ১২ হাজার ৬৮১ জন। হাসপাতালের হিসাবে প্রতি মাসে গড়ে ১ হাজার ৫৮৫ জন এসেছেন, আর আক্রান্তদের সবচেয়ে বড় অংশ বিড়ালের কামড় ও আঁচড়ের শিকার।
মাসভিত্তিক তথ্যে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৭১২, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ১৮৯, মার্চে ১ হাজার ১৮৭, এপ্রিলে ১ হাজার ৫৩৭, মে মাসে ১ হাজার ৫০৮, জুনে ১ হাজার ৬৫৯ এবং জুলাইয়ে ১ হাজার ৬০৮ জন টিকা নেন। আগস্টে সংখ্যাটি বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ২৮১ জনে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। ১ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর টিকা নেওয়া ১ হাজার ১৫০ জনের মধ্যে ১ হাজার ২৬ জনই বিড়ালের কামড় বা আঁচড়ে আক্রান্ত; কুকুরের কামড়ে ১২০ জন, বানরে তিনজন, শেয়ালে একজন।
হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান বলেন, আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশই পোষা বিড়ালের আঁচড় বা কামড়ের শিকার। টিকার চাহিদা এতটা বেড়েছে যে একদিনে ৫৬৩টি পর্যন্ত টিকা দিতে হয়েছে, প্রতিদিন গড়ে লাগে ২০০ থেকে ২৫০টি। অনেকে এক মাসের ব্যবধানে আবার আঁচড় খেয়ে টিকা নিতে আসছেন।
হাসপাতালের জলাতঙ্ক বিভাগের কর্মী রাজু আহমেদ জানান, অনেকে একাধিকবার টিকা নিতে আসছেন। হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলার পাঁচটি উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের হিসাব যোগ হলে সংখ্যা আরও বাড়বে, কারণ অনেকে ফার্মেসি থেকেও টিকা কিনে নেন। গত এক-দুই বছরে শহরে পোষা প্রাণীর খাবার ও পরিচর্যাসামগ্রীর একাধিক দোকানও গড়ে উঠেছে।
ডা. ইকবাল হাসানের পরামর্শ, পোষা বিড়াল বা কুকুর বাইরে গেলে বা বাইরের প্রাণীর সংস্পর্শে এলে ঝুঁকি বাড়ে; ঘরের ভেতরে রাখলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। অপ্রয়োজনে বারবার টিকা না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে নিতে বলেছেন তিনি।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, কোনো প্রাণী বাড়িতে আনার আগে তার টিকা নিশ্চিত করতে হবে এবং পোষা প্রাণী যেন বাইরের প্রাণীর সংস্পর্শে না আসে, সেদিকে নজর রাখতে হবে। জেলার হাসপাতালগুলোতে এখন র্যাবিস টিকার সংকট নেই বলেও জানান তিনি। কামড় বা আঁচড় লাগলে দেরি না করে নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সহসভাপতি শাহাবুদ্দিন মিলন।
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



মন্তব্য
(০)