বাজারে রেকর্ড ছাড়িয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। কয়েক সপ্তাহ ধরে এ মুরগির দাম দফায় দফায় বেড়ে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এমন পরিস্থিতিতে মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযানে নেমেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
গত দুইদিনে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মুরগির দাম নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়েছে সংস্থাটি। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (৬ মার্চ) ঢাকায় মুরগির সব থেকে বড় বাজার কাপ্তান বাজারে অভিযান চালিয়েছেন অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের অফিস প্রধান ও সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল এবং সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগম।
অভিযানের বিষয়ে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগম বলেন, কাপ্তান বাজারে দেখা যায় মুরগির কোনো দোকানেই মূল্য তালিকা টানানো নেই। নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারে মুরগির জোগান কম থাকলে এবং চাহিদা বেশি থাকলে নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে দেন তারা। সরকারি নির্দেশনার কোনো তোয়াক্কাই করছেন না এ বাজারের ব্যবসায়ীরা।আরও পড়ুন>> ১৪০ টাকায় নেমেছে ব্রয়লার মুরগি
এক সপ্তাহ আগে এ বাজারে অভিযানে এসে মূল্য তালিকা টানানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাজার কমিটির নেতাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে, এক সপ্তাহ পরও বাজারের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বাজারে মূল্য তালিকা না টানানোর বিষয়ে নানা যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করেন ব্যবসায়ীরা। আধাঘণ্টা, একঘণ্টার মধ্যে মুরগির দাম ওঠা-নামা করে, মুরগির সাইজ ছোট-বড় দেখে দাম কম বেশি হয়, ক্রেতা কম থাকলে লোকসান করে দাম কমিয়ে বিক্রি করে। তাই প্রতি মুহূর্তে মূল্য টানিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
ব্যবসায়ীদের এসব যুক্তি আমলে না নিয়ে ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ব্যবসা করতে হলে অবশ্যই সরকারের আইন মেনে করতে হবে। ভোক্তার অধিকার রক্ষায় দোকানে মূল্য তালিকা দৃশ্যমান রাখতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এসময় মূল্য তালিকা না থাকায় মুরগির দুই দোকানকে ১০ হাজার করে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে আব্দুল জব্বার মণ্ডল বলেন, ভোক্তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে দেশব্যাপী মুরগির বাজারে একযোগে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকার কাপ্তান বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়। মূল্য তালিকা টানানোর যে বিধান এ বাজারের কোনো দোকানেই তা মানা হচ্ছে না। গত সপ্তাহে সুন্দরভাবে এ বাজারের ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যাতে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করে এবং ক্রয়-বিক্রয় রশিদ সংগ্রহ করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় এখানও কেউ মূল্য তালিকা প্রদর্শন করছেন না। এ অপরাধে এখানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।'
এনএইচ/এমএএইচ/এএসএম





মন্তব্য
(০)