সুন্দর কথা মানুষকে আনন্দ দেয়, দুঃখ ভোলায়, নতুন করে বাঁচার সাহস দেয়; কটু কথা দীর্ঘদিনের কষ্টের কারণ হয়। ইসলাম সত্য, প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর কথাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এমন কথাকে ইবাদত হিসেবে গণ্য করেছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, উত্তম কথা সদকা। দেশ রূপান্তরে এ বিষয়ে লিখেছেন মাদ্রাসাতুদ দাওয়াহর শিক্ষক আমীনুর রহমান নড়াইলী।
লেখকের উদাহরণ, পরীক্ষায় খারাপ করা শিক্ষার্থীকে শিক্ষক যদি বলেন, চেষ্টা করলে তুমি আরও ভালো করবে, সেই কথা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। ব্যবসায় লোকসানে হতাশ মানুষকে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আবার চেষ্টা করতে বলা, কিংবা শোকগ্রস্তকে শুধু পাশে থাকার কথা জানানোও বড় সান্ত্বনা।
ভুল ধরিয়ে দিতে গিয়ে অপমান নয়, সংশোধনই লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। সন্তানকে অকর্মা বললে ভুল শোধরায় না, আত্মমর্যাদায় আঘাত লাগে; বরং কাজটি ঠিক হয়নি, তুমি এর চেয়ে ভালো পারো, এভাবে বললে সংশোধনের সঙ্গে ভালোবাসা ও আশাও থাকে। শিশুর মন নরম মাটির মতো, তাই বাবা-মা ও শিক্ষকের নেতিবাচক কথা তার নিজের সম্পর্কে ধারণাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
লেখকের পর্যবেক্ষণ, বাইরের মানুষের সঙ্গে আমরা বিনয়ী হলেও ঘরে ফিরে সেই সৌজন্য হারিয়ে ফেলি। সারা দিন সংসার সামলানো মাকে কৃতজ্ঞতা জানানো, ক্লান্ত বাবাকে সন্তানের উচ্ছ্বাস, কিংবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ধন্যবাদ ও দোয়ার ছোট বাক্য সম্পর্ককে নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
দাওয়াতের ক্ষেত্রেও কোমল ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে: আল্লাহ মুসা ও হারুন (আ.)-কে ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময় নরম কথা বলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তাই মতের অমিল থাকলেও সম্মান রেখে কথা বলা এবং কাউকে ছোট না করে ভুল ধরিয়ে দেওয়াই শিক্ষা।
কখনো নীরবতাও উত্তম: রাগের সময় চুপ থাকা, গালি দেওয়ার সুযোগেও সংযত থাকা, অন্যের গোপন কথা প্রকাশ না করা। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে আল্লাহ ও শেষ দিনে বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে। লেখকের মতে, একটি হাসি, একটি সালাম বা হতাশ মানুষকে আশার কথা শোনানোও নেক আমল হতে পারে।
সূত্র: দেশ রূপান্তর


মন্তব্য
(০)