পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় কাজী ফার্মসের একটি ফিডমিলে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে মিলটির কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এতে উত্তরবঙ্গে তাদের প্রায় ৩৫ লাখ মুরগির খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার দুপুরে ফিডমিলের সামনে ৩০০ থেকে ৪০০ মানুষ জড়ো হয়ে মিছিল ও স্লোগান দেয়। এক পর্যায়ে তারা কারখানার তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর চালায়; এতে মিলের তিন কর্মী আহত হন। হামলাকারীরা কারখানার ভেতর থেকে কম্পিউটার ও ক্যামেরাসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে যায়। ঘটনার পর বোদার ইউএনও, থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি ও এএসপি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করেন।
মিছিলকারীরা স্থানীয় বাসিন্দাদের চাকরি দেওয়ার দাবি জানান এবং কর্মী ছাঁটাই বন্ধের কথা বলেন। কাজী ফার্মসের ভাষ্য, পঞ্চগড়ের এই ফিডমিলে বর্তমানে ৩৭০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাঁদের ১৩৫ জন পঞ্চগড়ের বাসিন্দা; বাকিরা ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার। গত ছয় মাসে এই মিল থেকে কোনো কর্মী ছাঁটাই করা হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
উত্তরবঙ্গে কাজী ফার্মসের ৩২টি মুরগির খামারসহ মোট ৪৩টি পোলট্রি স্থাপনা রয়েছে, যেখানে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এ অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির মোট বিনিয়োগ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা এবং আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কাজী ফার্মসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী এম শামসুদ্দীন বলেন, ‘ফিডমিল থেকে কাজী ফার্মসের প্রায় ৩৫ লাখ মুরগির খাদ্য তৈরি করা হয়। হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষ মিলটি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। দ্রুত এটি চালু করা সম্ভব না হলে পঞ্চগড়সহ উত্তরবঙ্গের পোলট্রি খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।’ হামলার পেছনে কোনো অপশক্তি থাকতে পারে বলে মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি; তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চেয়ে ঘটনার তদন্ত, জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং দ্রুত মিল চালুর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।
ফিডমিলটি দ্রুত চালু করা না গেলে তার প্রভাব কেবল কোম্পানির ওপর নয়, উত্তরবঙ্গের পোলট্রি খাত ও সংশ্লিষ্ট খামারিদের ওপরও পড়তে পারে—কারণ মুরগির খাদ্যের সরবরাহ ভেঙে পড়লে খামারের উৎপাদন থমকে যায়। প্রতিবেদনটি সমকাল প্রতিবেদকের।
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)