উগান্ডায় ক্যান্সার রোগীদের অনেককে চিকিৎসার জন্য কয়েক শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়। চিকিৎসার মাঝের সময়ে তাঁদের খোঁজ রাখতে স্বয়ংক্রিয় ভয়েস কল ব্যবস্থা চালু করেছে উগান্ডা ক্যান্সার ইনস্টিটিউট (ইউসিআই)। হংকংয়ে বিশ্ব ক্যান্সার কংগ্রেস থেকে এ খবর দিয়েছে SciDev.Net (সাইডেভ ডট নেট)।
ইউসিআইয়ের চিকিৎসক ও ইনফরমেটিশিয়ান Johnblack Kabukye (জনব্ল্যাক কাবুকিয়ে) জানান, চিকিৎসার পর রোগীদের প্রায়ই বমি, ব্যথা, বমিভাব বা মুখে ঘা হয়; আগে চিকিৎসকেরা তা জানতে পারতেন তিন সপ্তাহ পর রোগী ফিরে এলে, অনেকে আর ফিরতেনও না। এখন নিবন্ধনের সময় নার্সরা রোগীর ফোন নম্বর, পছন্দের ভাষা ও সময় লিখে রাখেন, এরপর কম্পিউটার কয়েক দিন পরপর ফোন করে রেকর্ড করা প্রশ্ন শোনায়; রোগী চারটি বিকল্পের একটি বেছে উত্তর দেন। উত্তর যায় চিকিৎসকের কাছে, তিনিই ঠিক করেন রোগীকে আগে ফিরতে হবে কি না।
ব্যবস্থাটি ইন্টারঅ্যাকটিভ ভয়েস রেসপন্সভিত্তিক। হাসপাতাল ফোন করে বলে রোগীর কোনো খরচ নেই, আর এর জন্য ইন্টারনেট, স্মার্টফোন বা পড়তে জানার দরকার হয় না। কাবুকিয়ে বলেন, এতে কোনো মানুষ লাগে না এবং এটি বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক।
রক্তের ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় ১০০ রোগীকে নিয়ে গবেষণামূলক পরীক্ষায় সপ্তাহে প্রায় ৭০০টি কল করা হয়; গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে প্রায় ১৮ জনকে নির্ধারিত তারিখের আগেই হাসপাতালে ডাকা হয়। সুইজারল্যান্ডের ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের ৫০ হাজার ডলারে পরীক্ষাটি চলে। ইউসিআইয়ের এখন ছয়টি কল চ্যানেল আছে; সারা দেশে চালু করতে প্রায় ১০০টি চ্যানেল, আরও ভাষা ও কলের খরচের তহবিল লাগবে, আর দলটি ব্যবস্থাটি সৌরবিদ্যুতে চালানোর পরিকল্পনা করছে।
উগান্ডার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য পরিচালক ড্যানিয়েল কিয়াবায়িনজে জানান, ইউসিআইয়ে ব্যবস্থাটি গ্রহণের পরিকল্পনা আছে, সফল হলে আঞ্চলিক ক্যান্সার কেন্দ্রগুলোতেও এমন ব্যবস্থা হবে। স্তন ক্যান্সার থেকে সেরে ওঠা অধিকারকর্মী গারট্রুড নাকিগুদ্দে বলেন, বেশির ভাগ রোগী নিজের পকেট থেকে হাসপাতালের খরচ দেন বলে বিনা খরচের এমন সমাধান তাঁদের জন্য জরুরি।
কংগ্রেসে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা সংস্থার হিসাবে ২০২৪ সালে বিশ্বে ২ কোটি ৬ লাখ নতুন ক্যান্সার রোগী শনাক্ত হয় এবং প্রায় ১ কোটি মানুষ মারা যান; ২০৫০ সালের মধ্যে নতুন রোগী প্রায় সাড়ে ৩ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। ইউসিআই এখন স্তন ক্যান্সারসহ অন্য ক্যান্সারের জন্যও কলগুলো উপযোগী করছে এবং মডেলটি আফ্রিকার অন্য দেশে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
প্রতিবেদনটি সাইডেভ ডট নেটের জন্য লিখেছেন জন মুসেনজে।
ছবি: Joyce Nanjobe Kawooya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: SciDev.Net





মন্তব্য
(০)