একসময় পাট চাষের পর পড়ে থাকা অবহেলিত উপজাত পাটখড়ি এখন মেহেরপুরের কৃষকের কাছে আঁশের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য। পাটের দর নিয়ে প্রত্যাশা সব সময় পূরণ না হলেও পাটখড়ি বিক্রি করে উৎপাদন খরচের বড় অংশ তুলে আনছেন চাষিরা; কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাটের চেয়ে পাটখড়িতেই বেশি টাকা মিলছে, ফলে গত কয়েক বছরের লোকসানের পরও নতুন করে পাটে আগ্রহ বাড়ছে।
মেহেরপুরে এক বিঘায় পাট উৎপাদনে খরচ প্রায় ২০–২৫ হাজার টাকা, ফলন গড়ে ১০ মণ; মণ প্রায় ৩ হাজার টাকায় বিঘার পাট বিক্রি হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকায়। একই জমির পাটখড়ি মানভেদে ১০–১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। সদর উপজেলার পাটচাষি মাহাতাব হোসেন বাসসকে বলেন, বিঘায় প্রায় ২৬ হাজার টাকা খরচের পর পাট বেচে খুব বেশি লাভ থাকে না, কিন্তু পাটখড়ির বাড়তি টাকায় খরচ অনেকটাই উঠে আসে।
পাটখড়ির পুরোনো ব্যবহার মাটির চুলার জ্বালানি; এখন বাড়ির বেড়া, গোয়ালঘর, অস্থায়ী ঘের এবং সবজি বা অন্য ফসলের জমি পশু থেকে বাঁচাতে বেড়া তৈরিতেও লাগছে। পিরোজপুর গ্রামের কৃষক আবুল হাসানের কথায়, পাটখড়ি এখন আর ফেলে রাখার জিনিস নয়। মাঠ থেকে তুলে রাস্তার পাশে, মাঠে বা উঠানে রোদে শুকিয়ে ছোট আঁটিতে সংরক্ষণ করা সহজ; শুক্রবার কালাচাঁদপুর গ্রামের পিচরাস্তার দুই পাশে পাটখড়ি শুকানোর দৃশ্য চোখে পড়ে।
চাহিদা এখন গ্রামে সীমাবদ্ধ নেই—মেহেরপুর শহরেও ফেরি করে পাটখড়ি বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ বছর ধরে এ ব্যবসা করা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আগে এত ব্যবসা ছিল না; নানা কাজে ব্যবহার বাড়ায় চাহিদা বেড়েছে, কৃষকের কাছ থেকে মানভেদে বিঘার পাটখড়ি ১০–১৫ হাজার টাকায় কিনে গ্রাম ও শহরে ফেরি করে বিক্রি করেন তিনি।
বাসসের মেহেরপুর বিশেষ প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: বাসস





মন্তব্য
(০)