গাইবান্ধায় চলতি মৌসুমের ভরা বাজারে পাটের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। হাটে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ১০০ টাকায়, যা অন্তত গত ১০ বছরের মধ্যে ভরা মৌসুমের সর্বোচ্চ দাম বলে জানাচ্ছেন কৃষকেরা। দীর্ঘদিনের হতাশা কাটিয়ে এবার উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখছেন তাঁরা।
গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি ও ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি হাটে উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে পাটের বেচাকেনা। ভোর থেকেই নৌকায় করে পাট নিয়ে আসছেন চরাঞ্চলের চাষিরা; হাটের পাশাপাশি নৌকাতেও চলছে কেনাবেচা। ফুলছড়ির উদাখালি, উড়িয়া, ফজলুপুর ও কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পাট শুকানো ও ছেলার কাজ করছেন চাষিরা।
ফুলছড়ি ইউনিয়নের বাগবাড়ি এলাকার পাটচাষি আব্দুস সালাম বলেন, এবার দামে তাঁরা খুশি; এমন বাজার থাকলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে পাট চাষ করবেন। কৃষক আবেদ আলী ব্যাপারী বলেন, সব খরচ বাদে এবার লাভ হচ্ছে, তবে এই দাম কতদিন থাকবে তা নিয়ে শঙ্কা আছে। জামালপুরের ঘুটাইল বাজার থেকে আসা পাইকারি ক্রেতা খোরশেদ আলম জানান, সবচেয়ে ভালো মানের পাট ৪ হাজার ৫০ থেকে ৪ হাজার ১০০, মাঝারি মানের ৩ হাজার ৯০০ থেকে ৪ হাজার এবং তুলনামূলক নিম্নমানের পাট ৩ হাজার ৮০০ টাকায় কিনছেন তাঁরা।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় এ বছর ১৩ হাজার ৯৮৭ হেক্টরে পাট চাষ হয়েছে, যা গত বছরের ১৩ হাজার ৮১৭ হেক্টরের চেয়ে ১৭০ হেক্টর বেশি; ২০২২ সালে জেলার সাত উপজেলায় পাটের আবাদ ছিল ১৬ হাজার ৪৬০ হেক্টর, তারপর কয়েক বছরে আবাদ কমে গিয়ে গত দুই বছর ধরে ধীরে বাড়ছে। এ বছর উৎপাদন ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৯৮৭ টন; ৪৮ হেক্টরের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সার-বীজের প্রণোদনা চালু থাকলেও কোনো বছরই আবাদ ও উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি।
চাষিরা বলছেন, বন্যা-খরার ঝুঁকি আর ধারদেনা করে পাট চাষ করলেও দাম ঠিক করেন পাটকল মালিক ও ফড়িয়া-ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট, তাই প্রায় প্রতি বছরই পুঁজি হারিয়ে অনেকে আগ্রহ হারিয়েছেন। কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের উত্তর রসূলপুরের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, শতকরা ৯০ ভাগ কৃষকের ঘরে পাট ফুরিয়ে গেলে তবেই ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ান; এবার সেই চিত্র পাল্টেছে, তবে বাজার ধরে রাখতে সরকারের নজরদারি চান তিনি। ফুলছড়ি হাটে পাট বিক্রি করতে আসা আলফাজ আলী জানান, মৌসুমের শুরুতে বাধ্য হয়ে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায় পাট বেচেছিলেন তিনি, কয়েক সপ্তাহ পরেই সেই পাট হাটে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হয়েছে।
গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আসাদুজ্জামান বলেন, পাটের বাজার এখন ভালো এবং অন্য ফসলের পাশাপাশি পাটের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। জেলায় এ বছর দুই হাজার বিঘা জমির জন্য ২ হাজার ১০০ কৃষককে এক কেজি করে বীজ এবং পাঁচ কেজি ডিএপি ও পাঁচ কেজি এমওপি বিনা মূল্যে দেওয়া হয়েছে এবং মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কর্মকর্তারা পরামর্শ দিয়েছেন। প্রতিবেদনটি বাসসের, গাইবান্ধা থেকে ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত।
সূত্র: বাসস


মন্তব্য
(০)