ঝালকাঠিতে সুগন্ধা নদীর পাড়ে সারি সারি নৌকা বাঁধা, জাল প্রস্তুত, ইলিশ ধরার মৌসুম শেষের দিকে—কিন্তু নদীতে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ মিলছে না। দিনভর নদীতে ঘুরে যে মাছ ওঠে, তাতে নৌকার জ্বালানি, জালের খরচ আর সংসার চালানোই কঠিন। শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ও দেউরি গ্রামে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র মিলেছে; নলছিটির মাটিভাঙ্গার জেলেদেরও একই অভিযোগ।
মাথার ওপর ঋণের বোঝা: নিয়মিত এনজিওর কিস্তি, নৌকা-জাল কেনা বা মেরামতে মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনও শোধ করতে হবে, আর সামনে আবার ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা। দেউরি গ্রামের ৬৫ বছরের জেলে নুরু মিয়া জীবনের প্রায় পুরোটা সুগন্ধা ও বিষখালীতে মাছ ধরেছেন, কোথায় কখন ইলিশের ঝাঁক মেলে তা তাঁর নখদর্পণে—এবার সেই অভিজ্ঞতাও কাজে আসছে না। ছেলেকে নিয়ে মাছ ধরা আকাব্বর মৃধা মৌসুমের আগে নৌকা-জালে ঋণ করেছিলেন চার-পাঁচ মাস মাছ ধরে শোধ করবেন বলে; মৌসুম শেষের দিকে সেই হিসাব মিলছে না।
কাঠালিয়া-বেতাগী সীমান্ত এলাকার জেলে আখের আলী বলেন, তাঁদের এলাকায় ইলিশ তুলনামূলক বেশি মেলে বলে সারা বছর এই সময়ের অপেক্ষায় থাকেন জেলেরা, এবার সেখানেও মাছ কম; একদিকে এনজিওর কিস্তি, অন্যদিকে দাদন—কীভাবে শোধ করবেন সেটাই বড় চিন্তা। প্রতিবছর জুন থেকে অক্টোবর ইলিশের মৌসুমে সুগন্ধা ও বিষখালীতে জাল ফেলেন কয়েকশ জেলে; এই কয়েক মাসের আয়ে চলে সংসার, সন্তানের পড়াশোনা আর নৌকা-জালের খরচ।
জেলেদের অভিযোগের সঙ্গে মৎস্য বিভাগের হিসাবও কিছুটা মেলে: ঝালকাঠি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যে চলতি মৌসুমের জুন থেকে সেপ্টেম্বর—চার মাসে জেলায় ইলিশ আহরণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায়নি। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এনামুল হক বলেন, অন্যান্য জেলার নদীতে এ বছর ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়লেও সুগন্ধা ও বিষখালীতে মিলছে না; নদীর পানিদূষণ ও পলিজনিত কারণে এমন হতে পারে বলে তাঁর ধারণা। জেলেদের আশঙ্কা, নিষেধাজ্ঞার আগে পর্যাপ্ত ইলিশ না পেলে ঋণের বোঝা আরও ভারী হবে—তখন মাছ ধরার সুযোগ থাকবে না, কিস্তি ও দাদনের চাপ থাকবে।
দৈনিক বাংলার ঝালকাঠি প্রতিনিধির প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: দৈনিক বাংলা





মন্তব্য
(০)