জামালপুর পৌরসভার অন্তত পাঁচটি এলাকায় জলাবদ্ধতা এখন নিত্যসঙ্গী; বছরের প্রায় সাত-আট মাস পানিবন্দি থাকতে হয় বাসিন্দাদের। শুধু মানুষ নয়, ক্ষতি হচ্ছে গাছপালারও—হর্টিকালচার সেন্টারের ভেতরে টানা তিন বছর পানি জমে থাকায় মারা গেছে দেড় শতাধিক পুরোনো লিচু গাছ।
হর্টিকালচার সেন্টারের কর্মকর্তাদের তথ্যে, ১৯৬০ সালে ১৩৭টি লিচু গাছ নিয়ে বাগানটি গড়ে তোলা হয়। এসব গাছ থেকে সায়ন (কলমের উপযোগী ডাল) সংগ্রহ করে উন্নত জাতের লিচুর চারা উৎপাদন হতো, আর প্রতিবছর বাগানের লিচু বিক্রি করে সরকারি কোষাগারে রাজস্ব জমা পড়ত। গোড়ায় জমে থাকা পানিতে শিকড় নষ্ট হয়ে একে একে মারা গেছে ৬৬ বছরের পুরোনো গাছগুলো; একই কারণে ক্ষতির মুখে আম, ড্রাগন ও অন্যান্য ফলের গাছও।
জামালপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ শাখাওয়াত ইকরাম বলেন, সেন্টারের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রকল্পের কাজ চলছে এবং প্রকল্প শেষ হলে জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে আশা করা হচ্ছে; ইতোমধ্যে পানি নেমে যাচ্ছে, আর মারা যাওয়া গাছের জায়গায় নতুন করে লিচু গাছ লাগানো হবে।
পৌরসভার হাটচন্দ্রা ও পলাশতলাসহ পাঁচটি এলাকার মানুষ এই জলাবদ্ধতায় ভুগছেন। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের আলেয়া বেগম জানান, পানির জন্য ঘর থেকে বের হওয়া যায় না, টিউবওয়েলের পানিও খাওয়া যায় না। পলাশতলার দুই শতাধিক পরিবারের চলাচলের একমাত্র রাস্তাটি বছরজুড়ে পানির নিচে; শিক্ষার্থী ও রোগী পরিবহনে ভোগান্তি চরমে এবং পানিবাহিত রোগ লেগেই থাকে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, কার্যকর নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বছরের পর বছর একই সমস্যা ফিরে আসছে।
পলাশতলার দুলাল হোসেন বলেন, পৌর শহরের ভেতরে তিন শতাধিক পরিবার বন্যার মতো পানিবন্দি অবস্থায় আছে, অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থানীয় প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল হক বলেন, জলাবদ্ধতার কারণ চিহ্নিত করে নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; একটি ড্রেন করে ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বের করার ব্যবস্থা হয়েছে, এতে হর্টিকালচার সেন্টার, হাটচন্দ্রা ও পলাশতলার পানিও নেমে যাবে।
একটি সরকারি মাতৃবাগান হারানো মানে শুধু কয়েক লাখ টাকার লিচু নয়—উন্নত জাতের সায়নের উৎস হারানো, যার প্রভাব পড়ে জেলার নার্সারি ও ফলচাষিদের ওপর। শহরের নিষ্কাশন যে ফল বাগানেরও প্রশ্ন, জামালপুরের ঘটনা তা দেখিয়ে দিল।
সূত্র: বাংলানিউজ২৪





মন্তব্য
(০)