‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ ছোট্ট একটি বাক্য, অর্থ ‘আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই’। মুসলিমদের কাছে এটি খুব পরিচিত জিকির। চ্যানেল আই অনলাইনের ধর্ম ও জীবন পাতায় ফারজিয়া হোসেন লিখেছেন, কোরআন-হাদিসে ইস্তিগফারের গুরুত্ব শুধু গুনাহ মাফে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে তওবা, আল্লাহর রহমত আর কল্যাণের আশার কথাও এসেছে।
সুরা নুহের ১০ নম্বর আয়াতে হজরত নুহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছেন, কারণ তিনি মহাক্ষমাশীল; পরের ১১ ও ১২ নম্বর আয়াতে বৃষ্টি, সম্পদ ও সন্তানের মাধ্যমে কল্যাণের কথা এসেছে। তবে লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, এর অর্থ এই নয় যে শুধু ‘আস্তাগফিরুল্লাহ’ বললেই নির্দিষ্ট অর্থ বা কোনো চাওয়া নিশ্চিতভাবে পাওয়া যাবে; মূল শিক্ষা আল্লাহর কাছে ফিরে আসা আর তাঁর রহমতের আশা রাখা।
সহিহ বুখারিতে এসেছে, মহানবী (সা.) দিনে ৭০ বারের বেশি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও তওবা করতেন; অন্য একটি সহিহ বর্ণনায় ১০০ বারের কথা আছে। লেখকের মতে, এ থেকে বোঝা যায় ইস্তিগফার শুধু গুনাহগারের জন্য নয়, আল্লাহর নৈকট্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। সুরা আয-যুমারের ৫৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ সব গুনাহ ক্ষমা করে দেন, আর তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হতে নিষেধ করা হয়েছে।
লেখক লিখেছেন, শুধু মুখে উচ্চারণ আর আন্তরিক ক্ষমা চাওয়া এক নয়; তওবায় গুনাহ থেকে ফিরে আসা, অনুতপ্ত হওয়া আর আবার সেই কাজে না ফেরার চেষ্টা জরুরি। কারও অধিকার নষ্ট হয়ে থাকলে সম্ভব হলে তা ফিরিয়ে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ করাও দরকার। নামাজের পর, ঘুমানোর আগে, কাজের ফাঁকে বা কোনো ভুল মনে পড়লে যেকোনো সময় ইস্তিগফার করা যায়।
ছবি: Looi / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)