ইসরায়েলের স্টার্টআপ পিকার অ্যাগরোবোটিক্স (Picker AgRobotics) বাগানের ফল তোলার জন্য এমন রোবট বানাচ্ছে, যার বাহু লম্বা, নমনীয় আর ভেতরে ফাঁপা। ফল আঁকড়ে ধরে টেনে এনে কনভেয়রে রাখার বদলে এই বাহু ডালের ফাঁক গলে ফলের কাছে পৌঁছায়, বোঁটা কেটে দেয়, আর ফলটি বাহুর ভেতর দিয়ে গড়িয়ে কৃষকের আগের ঝুড়িতেই নেমে আসে। প্রতিষ্ঠানটি এই পদ্ধতির নাম দিয়েছে "স্নিপ-এন-রোল"।
লন্ডনে ওয়ার্ল্ড অ্যাগ্রি-টেক উদ্ভাবন সম্মেলনে এজিফান্ডনিউজকে নকশাটি বুঝিয়ে বলেন প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইয়োসি রোজেনব্লুম (Yossi Rosenblum)। তাঁর ভাষায়, "কোনো গ্রিপার নেই। আমরা শুধু ফলের কাছে যাই, বোঁটা কাটি, আর ফলটিকে ফাঁপা বাহুর ভেতর দিয়ে গড়িয়ে যেতে দিই।" রোজেনব্লুম বলেন, অন্য রোবট ফল-তোলা যন্ত্রগুলো শক্ত বাহু দিয়ে একটি একটি করে ফল তুলে ফিরে এসে রাখে, তাই সেগুলো দামি ও ধীর। বড় গাছে ছোট শক্ত বাহু বড়জোর ৩০ শতাংশ ফলে পৌঁছাতে পারে, আর পিকারের লক্ষ্য ৯৫ শতাংশ।
প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে অ্যাভোকাডো দিয়ে নিজের ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। অ্যাভোকাডো গাছ বড়, ছাঁটা হয় না, ঘন আর গভীর, আর সবুজ পাতার মধ্যে ফলও সবুজ। রোজেনব্লুমের যুক্তি, যে যন্ত্র অ্যাভোকাডো তুলতে পারে, সেটি কমলা, লেবু, নাশপাতি ও আপেলও তুলতে পারবে; তা ছাড়া অ্যাভোকাডো চাষিদের হাতে এখন কোনো রোবট বিকল্পই নেই। বাহু যথেষ্ট লম্বা বলে বাগান নতুন করে ঘন করে লাগাতে, মাচা দিতে বা বিশেষ কায়দায় ছাঁটতেও হয় না।
যন্ত্রটি নিজে চালকবিহীন গাড়ি নয়; এটি টেনে নিতে হয়। একজন ট্রাক্টরচালক বা একটি স্বয়ংক্রিয় যান একসঙ্গে চার-পাঁচটি ইউনিট এক গাছ থেকে আরেক গাছে নিয়ে যেতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত দৃষ্টি-মডেল প্রতিটি ফল পাকা কি না, আকার ও মান কেমন, তা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে কৃষক বিক্রিযোগ্য ফলটাই তোলেন, আর কোন গাছ থেকে কী উঠল ও কী রয়ে গেল, তার হিসাবও পান।
খরচের উদাহরণ হিসেবে রোজেনব্লুম যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ভ্যালির কমলাজাতীয় ফলের কথা বলেন: সেখানে ৯০০ পাউন্ডের এক ঝুড়ি ফল তুলতে খরচ ২৫ ডলার, পিকার বলছে তারা তা ২০ ডলারে পারবে। শুরুতে যন্ত্র ভাড়া (লিজ) দেওয়া হবে, তাতে হাতে তোলার চেয়ে খরচ প্রায় ২০ শতাংশ কম হবে; পরে কৃষক যন্ত্র কিনে নিলে খরচ শ্রমিক দিয়ে তোলার প্রায় অর্ধেকে নামবে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি। প্রথমে বড় খামারিদের কাছে সরাসরি, পরে ডিলারের মাধ্যমে মাঝারি ও ছোট খামারে যন্ত্র পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
পিকার অ্যাগরোবোটিক্সের যাত্রা শুরু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এ পর্যন্ত চারটি ইউনিট তৈরি হয়েছে, প্রতিটি আগেরটির চেয়ে উন্নত প্রজন্মের, আর সেগুলো অফিসের কাছের বাগানে পরীক্ষা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে গ্রাহকের খামারে পরীক্ষামূলক ব্যবহার শুরু হবে এবং আরও পাঁচটি ইউনিট যোগ হবে; শুরু ইসরায়েলে, তারপর ক্যালিফোর্নিয়া, সম্ভবত স্পেনেও।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন এজিফান্ডনিউজের এলেইন ওয়াটসন।
ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)