অফিস থেকে ফিরে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ফোনে ব্যস্ত, এক ঘরে থেকেও কথা হয় শুধু সন্তানের স্কুল, বাজারের হিসাব আর বিদ্যুৎ বিল নিয়ে। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় এমন এক চেনা দৃশ্য দিয়ে লেখা শুরু করেছেন মুহাম্মাদ মুহসিন মাশকুর। তাঁর মতে, আধুনিক সময়ে এই দূরত্ব বাড়ছে, আর কোরআন ও হাদিসে এর সমাধানের পথ আছে।
লেখক সুরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতের কথা বলেছেন, যেখানে আল্লাহ জানিয়েছেন, তিনি মানুষের জন্য তাদের মধ্য থেকেই সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যেন তারা প্রশান্তি পায়, আর তাদের মধ্যে দিয়েছেন ভালোবাসা ও দয়া। লেখকের ব্যাখ্যায়, বিয়ের প্রথম উদ্দেশ্য প্রশান্তি; ভালোবাসা প্রকাশ পায় কাজে, কথায় ও আচরণে; আর মমতা ও যত্ন ছাড়া সে ভালোবাসা পূর্ণ হয় না।
প্রথম শিক্ষা পরিবারের সঙ্গে উত্তম আচরণ। মহানবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে তার পরিবারের কাছে সবচেয়ে উত্তম (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৮৯৫)। দ্বিতীয় শিক্ষা একে অপরের ত্রুটি মেনে নেওয়া; সহিহ মুসলিমের হাদিসে (১৪৬৯) বলা হয়েছে, কোনো মুমিন পুরুষ যেন মুমিন নারীকে ঘৃণা না করে, একটি স্বভাব অপছন্দ হলে অন্যটি নিশ্চয়ই পছন্দ হবে।
তৃতীয় শিক্ষা সংসারের কাজে হাত লাগানো। আয়েশা (রা.) জানিয়েছেন, মহানবী (সা.) ঘরে পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকতেন এবং নামাজের সময় হলে নামাজে যেতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭৬)। চতুর্থ শিক্ষা সদাচরণ বজায় রাখা; সুরা নিসার ১৯ নম্বর আয়াতে স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণে জীবন যাপনের নির্দেশ এসেছে।
পঞ্চম শিক্ষা একে অপরের রক্ষাকবচ হওয়া। সুরা বাকারার ১৮৭ নম্বর আয়াতে স্বামী-স্ত্রীকে একে অপরের পোশাক বলা হয়েছে; লেখকের ব্যাখ্যায়, পোশাক যেমন শরীর ঢেকে রাখে ও রক্ষা করে, তেমনি একে অপরের দোষ-ত্রুটি বাইরে প্রকাশ না করে আগলে রাখাই এর শিক্ষা।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর দৌড় প্রতিযোগিতার ঘটনা (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৫৭৮) দেখায়, সংসার শুধু দায়িত্ব নয়, আনন্দেরও জায়গা। তাঁর পরামর্শ, রাতে ফোন সরিয়ে রেখে জীবনসঙ্গীর সঙ্গে দিনের গল্প করা, একটি প্রশংসা করা আর একসঙ্গে হাসার সময় বের করা।
ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)