রাস্তা কারও ব্যক্তিগত জায়গা নয়, সেখানে চলাচলকারী প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় এই কথা দিয়ে নিরাপদ সড়ক প্রসঙ্গে ইসলামের শিক্ষা তুলে ধরেছেন আলেম ও প্রাবন্ধিক ইফতেখারুল হক হাসনাইন। লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজের।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাসুল (সা.) সাহাবিদের রাস্তায় বসতে নিষেধ করেছিলেন এবং একান্ত প্রয়োজনে রাস্তার হক আদায়ের নির্দেশ দিয়েছিলেন: দৃষ্টি সংযত রাখা, কাউকে কষ্ট না দেওয়া, সালামের জবাব দেওয়া, ভালো কাজে উৎসাহ ও মন্দ কাজে বাধা (সহিহ বুখারি, হাদিস ৬২২৯)। আর পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানোকে ইমানের একটি শাখা বলা হয়েছে (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৩৫)।
আজকের বাস্তবতায় লেখক এর ব্যাপ্তি বড় করে দেখেছেন: রাস্তায় নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা, যেখানে-সেখানে আবর্জনা, ফুটপাত দখল আর অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলে। অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া চালনা ও ভুলভাবে ওভারটেক করা চালকের নিজের ও অন্যের জীবন বিপন্ন করে, তাই সংযত চালনা ইসলামের সামগ্রিক নীতির সঙ্গে মেলে।
পথচারী, শিশু, নারী, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী মানুষের নিরাপদ চলাচলের অধিকারের কথাও এসেছে লেখায়। কাউকে বাহনে উঠতে সাহায্য করা বা মালপত্র তুলে দেওয়াকে সদকা বলা হয়েছে (সহিহ বুখারি, হাদিস ২৯৮৯), পথ না চেনা মানুষকে পথ দেখানোকেও (সুনানে তিরমিজি, হাদিস ১৯৫৬)। পথ থেকে কষ্টদায়ক একটি ডাল সরানোর কারণে এক ব্যক্তিকে ক্ষমা করার ঘটনাও সহিহ মুসলিমে (হাদিস ১৯১৪) আছে।
মানুষের জীবনের মর্যাদা বোঝাতে লেখক সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করেছেন এবং বলেছেন, অনিচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রেও কোরআন ক্ষতিপূরণ ও কাফফারার বিধান দিয়েছে (সুরা নিসা, আয়াত ৯২)।
লেখক শেষে বলেছেন, নিরাপদ সড়ক কোনো একক ব্যক্তির কাজ নয়: চালককে দায়িত্বশীল, পথচারীকে নিয়ম মেনে চলা, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদের সতর্ক থাকা এবং রাষ্ট্রকে কার্যকর আইন ও নিরাপদ অবকাঠামো নিশ্চিত করতে হবে। অন্যের অধিকারকে নিজের অধিকারের মতো গুরুত্ব দিলেই সড়ক নিরাপদ হয়।
ছবি: ~Pyb / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)