‘ওর জিনিস ব্যবহার করতে আবার জিজ্ঞেস করা লাগবে নাকি!’ পরিবার, বন্ধুমহল বা কর্মক্ষেত্রে এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। কিন্তু ইসলাম শেখায়, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা মানুষের অধিকার ও ব্যক্তিগত সীমারেখা মুছে দেয় না, প্রথম আলোয় লিখেছেন আলেম, লেখক ও গবেষক রায়হান আল ইমরান।
কোরআনে বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করো না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৮৮) লেখকের মতে, মোবাইল, বই, পোশাক বা ব্যাগ, মূল্য যত কমই হোক, ব্যবহারের অধিকার মূলত মালিকের। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘কোনো মুসলিমের সম্পদ তার সন্তুষ্টি ছাড়া গ্রহণ করা হালাল নয়।’ (সুনানে দারাকুতনি: ৩/২৬) তাই দুই মিনিটের জন্য হলেও অনুমতি দরকার।
অনুমতিরও সীমা আছে। কেউ নির্দিষ্ট কাজে গাড়ি ব্যবহার করতে দিলে তা অন্যকে দেওয়া, অন্য কাজে লাগানো বা সময়ের পরও রেখে দেওয়া যায় না। কোরআনে আমানত তার হকদারকে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ আছে (সুরা নিসা, আয়াত: ৫৮)। ব্যবহারের সময় ক্ষতি হলে তা গোপন না করে মালিককে জানানো ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াই দায়িত্বশীলতা।
গোপনীয়তার প্রশ্নও জড়িত: কারও ফোন ব্যবহারের অনুমতি মানে তাঁর কথোপকথন, ছবি বা বার্তা দেখার অনুমতি নয়। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত: ১২)
ভুল হয়ে গেলে তা স্বীকার করা, ক্ষমা চাওয়া এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ করাই উত্তম পথ বলে লেখক মনে করেন, আর পরামর্শ দেন, অন্যের জিনিস ব্যবহারের আগে একটি ছোট্ট প্রশ্ন করুন: ‘আমি কি এটা ব্যবহার করতে পারি?’
ছবি: Unknown author / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)