মানুষ জন্মগতভাবে ভালো, নাকি মন্দ, এ প্রশ্নে কোরআন ও সহিহ হাদিসের নির্দেশনা তুলে ধরেছে চ্যানেল আই অনলাইনের একটি লেখা। তাতে বলা হয়েছে, ইসলামে মানুষকে জন্মগতভাবে পাপী বা মন্দ সত্তা হিসেবে দেখা হয়নি; মানুষ জন্মায় ফিতরাহ বা স্বাভাবিক প্রকৃতি নিয়ে।
সহিহ মুসলিমের ২৬৫৮ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রত্যেক শিশু ফিতরাহর ওপর জন্মায়, এরপর বাবা-মা তাকে পরবর্তী ধর্মীয় পরিচয়ের দিকে নিয়ে যায়। এই হাদিসের সঙ্গে তিনি সুরা আর-রুমের ৩০ নম্বর আয়াতও উল্লেখ করেছেন। লেখায় বলা হয়েছে, এ থেকে বোঝা যায় বেড়ে ওঠার পরিবেশ মানুষের বিশ্বাস ও পরিচয়ে প্রভাব ফেলে, তবে ব্যক্তির নিজের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ।
সুরা আশ-শামসের ৭ থেকে ১০ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ আত্মাকে তার ভালো-মন্দ সম্পর্কে সচেতন করেছেন; যে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে সে সফল, যে কলুষিত করে সে ব্যর্থ। সুরা আল-বালাদের ১০ নম্বর আয়াতে মানুষকে দুটি পথ দেখানোর কথা, আর সুরা আল-ইনসানের ৩ নম্বর আয়াতে পথ দেখানোর পর কৃতজ্ঞ বা অকৃতজ্ঞ হওয়ার কথা আছে।
লেখায় বলা হয়েছে, কোরআন-হাদিসে একটি ভুল বা পাপের কারণে কাউকে চিরকালের জন্য ‘মন্দ মানুষ’ চিহ্নিত করার ধারণা নেই; বরং আত্মশুদ্ধি, সঠিক পথে ফেরা ও ভালো কাজের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ইসলাম অন্যায়কে অন্যায় হিসেবেই দেখে, আবার সংশোধনের পথও খোলা রাখে।
উপসংহারে বলা হয়েছে, মানুষ ফিতরাহ নিয়ে জন্মালেও তার মধ্যে ভালো-মন্দ বেছে নেওয়ার ক্ষমতা আছে, আর নিজের কাজের মাধ্যমে সে আত্মা ও চরিত্রকে পরিশুদ্ধ বা কলুষিত করতে পারে। লেখাটি ফারজিয়া হোসেনের।
ছবি: OJjnr / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: চ্যানেল আই অনলাইন





মন্তব্য
(০)