ত্রিশ-পঁয়ত্রিশ বছর আগেও গ্রামে কারও বাড়িতে লাউ ধরলে তা আত্মীয়ের বাড়িতে যেত, বেশি মাছ ধরা পড়লে প্রতিবেশীর ঘরে পৌঁছে দেওয়া হতো, গাছের পাকা ফল আর গরুর দুধও ভাগ হতো আপনজনের সঙ্গে। দেশ রূপান্তরে শরীফ উদ্দিন পেশোয়ার লিখেছেন, মানুষের সম্পদ ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে, কিন্তু সেই স্বতঃস্ফূর্ত ভাগাভাগির সংস্কৃতি কমে আসছে, কারণ আমরা এখন নিজের প্রয়োজন আর সুবিধাকেই বেশি প্রাধান্য দিই।
অথচ প্রতিবেশীকে ভুলতে নিষেধ করেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। আবু জর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেছেন, তরকারি রান্না করলে তাতে ঝোল একটু বেশি দিতে এবং প্রতিবেশীকে তা থেকে কিছু দিতে (সহিহ মুসলিম ২৬২৫)।
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ইমান রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে সম্মান করে (সহিহ বুখারি ৬০১৯)। প্রতিবেশীর পাঠানো সামান্য উপহারকেও তুচ্ছ মনে করতে নিষেধ করেছেন তিনি (সহিহ বুখারি ২৫৬৬)।
কোরআনে আল্লাহ ন্যায়পরায়ণতা, সদাচরণ ও আত্মীয়স্বজনকে দানের নির্দেশ দিয়েছেন (সুরা নাহল ৯০)। সুরা নুরের ২২ নম্বর আয়াতে সম্পদশালীদের বলা হয়েছে, তারা যেন আত্মীয়, অভাবগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে ঘরছাড়াদের কিছু না দেওয়ার শপথ না করে, বরং ক্ষমা করে ও দোষ উপেক্ষা করে।
লেখকের প্রশ্ন, সম্পদের সামান্য অংশ দিয়ে যদি আপনজনের মুখে হাসি ফোটানো, প্রতিবেশীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া আর বিপদে পাশে দাঁড়ানো না যায়, তবে সেই প্রাচুর্যের পূর্ণতা কোথায়? একটি লাউ, কয়েকটি মাছ বা কিছু ফলও যে মানুষের মধ্যে মমতার সেতু গড়তে পারে, সেই দিনগুলোর দিকে একবার ফিরে তাকানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর




মন্তব্য
(০)