একটি বাণিজ্যিক সুগার বিট প্রজনন কর্মসূচির দুই দশকের জিনোম বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাইব্রিড বীজ উৎপাদন কীভাবে সেই বীজ তৈরির গাছগুলোর জিনগত গঠন বদলে দিয়েছে। ১৯ সেপ্টেম্বর থিওরেটিক্যাল অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড জেনেটিক্স সাময়িকীতে অনলাইনে প্রকাশিত গবেষণাটি বলছে, এ ফল প্রজননবিদদের রোগ প্রতিরোধ ও জিনগত বৈচিত্র্য সামলাতে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দেবে।
গবেষণাটি করেছে ফ্রান্সের জাতীয় কৃষি ও পরিবেশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনরায়ে (INRAE), ইউনিভার্সিতে পারি-সাক্লে ও আগ্রোপারিতেক, সঙ্গে ছিল ইউনাইটেড বিট সিডস। ২০২৪ সালে গ্রুপ ফ্লোরিমন্ড দেপ্রে ও ডিএলএফ সিডসের অংশীদারত্বে গড়া এ প্রতিষ্ঠানের অধীনে আছে এসইএসভ্যান্ডারহেভ ও মারিবো সিড ব্র্যান্ড। প্রধান লেখক অগাস্তাঁ দেপ্রে (Augustin Desprez)।
বাণিজ্যিক বিটের বীজ আসে তিন ধাপের সংকরায়ণে: পুরুষ-বন্ধ্যা একটি স্ত্রী লাইনকে একটি রক্ষণাবেক্ষণ লাইনের সঙ্গে সংকরায়ণ করে হাইব্রিড স্ত্রী মা-গাছ তৈরি হয়, তারপর সেটিকে পরাগ দেওয়া আলাদা পুরুষ লাইনের সঙ্গে মেলানো হয়। প্রতিটি বীজে একটি চারা হওয়ার বৈশিষ্ট্য (মনোজার্মি) মিলিয়ে এ পদ্ধতি যন্ত্রে নিখুঁত বপন সম্ভব করেছে এবং বিট বীজকে যান্ত্রিক শিল্পে পরিণত করেছে।
দলটি ১৯৯৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনটি পর্বে ১,২৮৫টি প্রজনন লাইন ও ১১,০৯৯টি গাছের জিনগত তথ্য বিশ্লেষণ করেছে। পুরুষ ও স্ত্রী লাইনের জিনগত দূরত্ব বেড়েছে: এফএসটি মান ০.২৫ থেকে ০.২৭ এবং জোরালো পার্থক্যের মার্কারের অনুপাত ১৯.৩ থেকে ২২.৭ শতাংশে উঠেছে। হাইব্রিডের তেজ বাড়াতে এটি প্রজননবিদদের সচেতন কৌশল। পুরুষ লাইনের ভেতরের বৈচিত্র্য ০.৩৫ থেকে ০.৩৩-এ নেমেছে, যা নজরে রাখতে হবে।
৩ নম্বর ক্রোমোজোমে রাইজোম্যানিয়া রোগ প্রতিরোধী আরজেড১ (Rz1) জিনের অঞ্চল পাওয়া গেছে দুই রূপে, প্রায় পুরোপুরি লাইনভেদে ভাগ হয়ে: একটি রূপ ৯০ শতাংশের বেশি পুরুষ লাইনে, অন্যটি মূলত স্ত্রী লাইনে। মাটিবাহিত এ ভাইরাস রোগ ফলন ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমাতে পারে। অসময়ে ফুল আসা (বোল্টিং) নিয়ন্ত্রণকারী বিভিবিটিসি১ জিনের আশপাশে মিলেছে ১৫টি রূপ।
কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়রেখাও দিয়েছে গবেষণাটি। ৫ নম্বর ক্রোমোজোমে বিট সিস্ট নেমাটোড সহনশীলতার একটি অঞ্চল ২০০০-এর দশকের শুরুতে যুক্ত করা হয়, যা প্রথম পর্বে ৯ শতাংশ লাইন থেকে শেষ পর্বে ৪৩ শতাংশ লাইনে ছড়িয়েছে। একটি নতুন প্রতিরোধী গুণ বাণিজ্যিক প্রজননে কত দ্রুত ছড়াতে পারে, বীজ কোম্পানিগুলো এখন তার বাস্তব হিসাব পেল।
ছবি: Blonder1984 / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার


মন্তব্য
(০)