পায়ের নখের কোনা মাংসের ভেতরে দেবে গেলে হাঁটাচলাতেও ব্যথা হয়। সিলেট ইবনে সিনা হাসপাতালের কনসালট্যান্ট সার্জন ডা. রেজা আহমদ জানিয়েছেন, এর অন্যতম কারণ বেশি গভীর করে নখ কাটা বা কাটার সময় কোনা গোল করে ফেলা। তখন নখ বাড়তে গিয়ে পাশের নরম অংশে ঢুকে যায়।
নখে আঘাত, সামনের দিকে আঙুল চেপে রাখা জুতা, দীর্ঘ সময় বদ্ধ জুতায় পা ঘামা এবং পা ভেজা থাকাও ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স্ক মানুষ, যাঁরা আঙুলের পরিচ্ছন্নতা ঠিকমতো রাখতে পারেন না, তাঁদের জীবাণু সংক্রমণের জটিলতা থেকেও এমন হতে পারে। সাধারণত বুড়ো আঙুলই আক্রান্ত হয়; ব্যথা, ফোলা, লালচে ভাব ও সংক্রমণ থাকলে পুঁজ জমে।
প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে লবণ মেশানো উষ্ণ পানিতে প্রতিবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট, দিনে দু-তিনবার পা ডুবিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বিশ্রাম নিলে এবং ফোলা থাকলে পা একটু উঁচু করে রাখলে আরাম মেলে।
লোকমুখে প্রচলিত পটাশ পানি বা আঙুলে কাঁচা বেগুন পরিয়ে রাখার কার্যকারিতার নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক। পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের ঘনত্ব ঠিক না হলে ত্বক জ্বলে বা রাসায়নিকে পুড়ে যেতে পারে; বেগুন পরিয়ে রাখলে জায়গাটি দীর্ঘ সময় আবদ্ধ ও ভেজা থাকে।
পুঁজ জমলে, প্রাথমিক চিকিৎসায় উন্নতি না হলে, তীব্র ব্যথা বা লালচে ভাব ছড়িয়ে পড়লে কিংবা নখ ভেঙে গেলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। চিকিৎসক সংক্রমণ আছে কি না দেখে প্রয়োজনে অ্যান্টিবায়োটিক দেবেন। অল্প কিছু ক্ষেত্রেই নখের একাংশ ভিত্তিসহ কেটে ফেলতে হয় (পারশিয়াল নেইল অ্যাভালশন), যাতে নখ আর ভেতরের দিকে না বাড়ে।
প্রতিরোধে নখ সমান করে কাটা, কোনা গোল না করা, আঙুল চেপে রাখে এমন জুতা এড়ানো, খেলাধুলায় ভালো জুতা পরা, পা শুকনো ও পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. রেজা আহমদ।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর জীবনযাপন পাতার জন্য লিখেছেন রাফিয়া আলম।
ছবি: Flydochc / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)