ভারতের জাতীয় কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার ৩৩ জন গম ও ভুট্টা প্রজননবিদ, যাঁদের মধ্যে আছেন আইসিএআরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও রাজ্য কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানী এবং সিমিট (CIMMYT) ও বোরলগ ইনস্টিটিউট ফর সাউথ এশিয়ার (বিসা) গবেষকেরা, হায়দরাবাদে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ফসল প্রজনন ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। কর্মশালাটি আয়োজন করে সিমিট-বিসা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি প্রজননবিদের জায়গা নিতে পারবে, এই প্রশ্নের জবাবে কর্মশালার আহ্বায়ক, সিমিটের বিশিষ্ট বিজ্ঞানী, এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ও বিসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক বি এম প্রসন্ন বলেন, না। তাঁর ভাষায়, "তবে অদূর ভবিষ্যতে এটি ফসল প্রজননকে বদলে দেবে।" তিনি বলেন, এআইয়ের মূল্য হলো জটিল তথ্য থেকে প্রজননবিদকে দ্রুত ও ভালোভাবে জেনে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করা; ভারতে এমন প্রশিক্ষণ এই প্রথম।
জলবায়ু ও চাষের পরিবেশ দ্রুত বদলাচ্ছে, আর প্রজননবিদদের হাতে জমছে বিপুল জিনগত, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য, পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার তথ্য। কর্মশালায় এআইকে আলাদা হাতিয়ার হিসেবে না দেখে প্রজনন চক্রের ভেতরে রাখা হয়: পরীক্ষার নকশা ও মাঠের তথ্য সংগ্রহ থেকে শুরু করে ফিনোটাইপিং, তথ্য ব্যবস্থাপনা, জিনোমিকস ও বিশ্লেষণ হয়ে চূড়ান্ত বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত পর্যন্ত।
প্রতিটি ধাপে একটি শিক্ষা বারবার এসেছে: এআই ততটুকুই কাজের, যতটা ভালো এর পেছনের তথ্য ও বিজ্ঞানীর বিচারবুদ্ধি। সিমিটের ডেটা সায়েন্স দলের কিথ গার্ডনার, কেট ড্রেহার ও অ্যাঞ্জেলা পাচেকো ডিজিটাল মাঠ-তথ্য সংগ্রহ, কেন্দ্রীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা ও এআই-সহায়ক বিশ্লেষণ শেখান। অংশগ্রহণকারীরা এন্টারপ্রাইজ ব্রিডিং সিস্টেম, ই-অ্যাগ্রোলজি, ফেয়ারগ্রাউন্ডস, ফিল্ড বুক ও বায়োফ্লোর মতো সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, আর গবেষণা মাঠে ড্রোনে তথ্য সংগ্রহ এবং ছবিভিত্তিক প্ল্যাটফর্মের প্রদর্শনী দেখেন। চীনা কৃষি বিজ্ঞান একাডেমির অধ্যাপক হুইহুই লি জৈবতথ্যবিজ্ঞান ও জিনোমিকসে এআইয়ের ব্যবহার তুলে ধরেন।
সিমিটের কোয়ান্টিটেটিভ জেনেটিসিস্ট ক্রিশ্চিয়ান ভার্নার বলেন, যে প্রজননবিদেরা নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শিখবেন, তাঁরাই ভবিষ্যতের জন্য বেশি প্রস্তুত থাকবেন। আইসিএআর-ভারতীয় গম ও যব গবেষণা ইনস্টিটিউটের রীনা সাহারান বলেন, শেখানো কয়েকটি পদ্ধতি সরাসরি তাঁর গবেষণায় কাজে লাগবে; তিনি ভবিষ্যতে আরও হাতে-কলমে চর্চা চেয়েছেন। বেঙ্গালুরুর কৃষি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচ বি মহেশ শিক্ষার্থীদের এসব শেখাবেন বলে জানিয়েছেন।
প্রসন্ন বলেন, ভারতে প্রজননের অবকাঠামো, জিনগত বৈচিত্র্য বা বিজ্ঞানীর ঘাটতি নেই; কাজটা হলো এগুলোকে দ্রুততর, আগাম অনুমাননির্ভর, তথ্যভিত্তিক প্রজনন ব্যবস্থায় একত্র করা, যাতে কৃষক বেশি জিনগত উন্নতির সুফল পান। সিমিট এই কর্মশালার ধারাবাহিকতায় আরও প্রশিক্ষণ ও প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করছে।
ছবি: Luigi Guarino / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)