যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এনডিএসইউ) ক্যারিংটন গবেষণা ও সম্প্রসারণ কেন্দ্রের এক প্রাথমিক মাঠ পরীক্ষায় স্প্রে ড্রোন গমের স্ক্যাব রোগ দমনে প্রচলিত মাটির স্প্রেয়ারের মতোই কাজ করেছে। ফসল রক্ষার ছোট সময়টায় জমি ভারী যন্ত্র নামানোর মতো শুকনো না থাকলে চাষির জন্য এটি বিকল্প হতে পারে।
গমের স্ক্যাব বা ফিউজেরিয়াম হেড ব্লাইট ফলন ও দানার মান কমায় এবং ডিঅক্সিনিভালেনল (ডন) নামের বিষাক্ত উপাদান বাড়ায়, যার কারণে গুদামে দাম কাটা যেতে পারে বা ফসল ফেরত আসতে পারে। ছত্রাকনাশক কাজ করে কেবল ফুল ফোটার অল্প সময়ের মধ্যে দিলে, আর ঠিক তখনই ভেজা মাটির কারণে প্রায়ই মাটির স্প্রেয়ার জমিতে নামানো যায় না।
ড. কার্নের গবেষণাগার হার্ড রেড স্প্রিং গমে তিনটি পদ্ধতি তুলনা করে: কোনো ওষুধ না দেওয়া, মাটির স্প্রেয়ারে প্রয়োগ এবং ড্রোনে প্রয়োগ; দুই ক্ষেত্রেই একই মাত্রায় মিরাভিস এস ছত্রাকনাশক। মাটির স্প্রেয়ার একরে ১৫ গ্যালন পানি দিয়েছে; হাইলিও এজি-২৩০ ড্রোন দিয়েছে একরে ৫ গ্যালন, ফসলের ১২ ফুট ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১০ মাইল বেগে উড়ে।
দুই পদ্ধতিতেই রোগ কমেছে। ওষুধ না দেওয়া গমে ফিউজেরিয়াম হেড ব্লাইট সূচক ছিল ১১.৫৬ শতাংশ, মাটির স্প্রেয়ারের পর ২.৮৩ শতাংশ, আর ড্রোনের পর ২.৫০ শতাংশ; দুই পদ্ধতিতেই আক্রমণের হার ও তীব্রতা কমেছে। ফলন ছিল ওষুধ ছাড়া একরে ৬১.৩ বুশেল, মাটির স্প্রেয়ারে ৬৩.৭ আর ড্রোনে ৬৩.৯ বুশেল। দানার ওজনও (টেস্ট ওয়েট) সামান্য বেড়ে প্রতি বুশেলে ৫৭.৪২ পাউন্ড থেকে ৫৭.৬২ ও ৫৭.৮৮ পাউন্ড হয়েছে।
গবেষকেরা জোর দিয়ে বলছেন, এগুলো প্রাথমিক সংখ্যা; ভিন্ন পরিবেশ, স্প্রের পরিমাণ ও ড্রোনের সেটিংসে ফল কতটা ধারাবাহিক থাকে, তা জানতে আরও গবেষণা দরকার। কোন পদ্ধতিতে প্রয়োগ করবেন, তা ঠিক করতে স্প্রের বিস্তার, মাত্রা, আবহাওয়া, ফসলের পর্যায় ও লেবেলের নির্দেশনা এখনো বিবেচনা করতে হবে।
গমচাষির জন্য মূল কথা সময়: পানি জমা জমির ওপর দিয়ে উড়তে পারা ড্রোন হয়তো ফুল ফোটার সময়টা হাতছাড়া না করে ফসল রক্ষার সুযোগ দেবে।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Farms.com





মন্তব্য
(০)