২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে, এপ্রিল থেকে আগস্টে, ভারতের প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের ২১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার থেকে ৪৪ শতাংশ বেড়ে ৩১৩ কোটি ২০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যে এমনটি দেখা গেছে। শুধু আগস্টেই রপ্তানি হয়েছে ৬৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা ২০২৫ সালের আগস্টের ৫০ কোটি ৬০ লাখ ডলারের চেয়ে ৩৭.১ শতাংশ বেশি।
কয়েক বছরের মতো এবারও বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি মহিষের মাংস, যা এমন বাজারে যায় যেখানে গরুর মাংস নিয়ে ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা আছে। প্রবাসী ভারতীয় এবং পশ্চিম ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চাহিদায় ঘি ও গুঁড়া দুধও সহায়তা করেছে। পোলট্রি রপ্তানিতে পুনরুদ্ধারের লক্ষণ থাকলেও তা মূলত ডিম ও ডিমের গুঁড়ায়; উৎপাদন খরচের কারণে মুরগির মাংস রপ্তানি এখনো লাভজনক নয় বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
প্রধান গন্তব্যের মধ্যে আছে ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত; আফ্রিকার আমদানিকারকদের কাছেও ভারতীয় মহিষের মাংস স্থানীয় বা ইউরোপীয় মাংসের চেয়ে সস্তা আমিষ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রাণিজ পণ্য রপ্তানি ছিল ৬২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার, আগের বছরের চেয়ে ২২ শতাংশ বেশি; বর্তমান গতি থাকলে এবার তা সহজেই ছাড়িয়ে যাবে। তবে বর্ষানির্ভর পশুখাদ্যের দাম, প্রাণিরোগের প্রাদুর্ভাব এবং আমদানিকারক দেশের কড়া পরিদর্শন যেকোনো সময় গতি উল্টে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে।
দুধ উৎপাদনে ভারত বিশ্বে শীর্ষে হলেও পশুপ্রতি উৎপাদনে পিছিয়ে। শিল্প সংগঠনগুলো বলছে, মান নিয়ন্ত্রণ, হিমায়িত সরবরাহ ব্যবস্থা ও উচ্চমূল্যের প্রক্রিয়াজাত পণ্যে যাওয়াই পরবর্তী অগ্রাধিকার; আর এই প্রবৃদ্ধি দেশের প্রায় ৮ কোটি দুগ্ধখামারি পরিবারকে প্রাণিস্বাস্থ্য, প্রজনন ও পশুখাদ্যে বিনিয়োগের বাড়তি যুক্তি দেয়।
ছবি: Utkarshsingh.1992 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)