মূলত ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আসা ভারতের কাঠবাদাম (আমন্ড) আমদানি এই বাজার-বছরে ৮ শতাংশ বেড়ে খোসাছাড়া হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টনে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার প্রায় ৮৯ শতাংশ আসবে গোল্ডেন স্টেট থেকে—USDA Foreign Agricultural Service (ইউএসডিএ ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস)-এর নতুন প্রতিবেদন বলছে। চড়া দাম ও টান পড়া সরবরাহের পরও ভারতের বাদামের ক্ষুধা বাড়ছে, কারণ দেশটির এমনিতেই সামান্য উৎপাদন সংকুচিত হচ্ছে—আর প্রতিবেদন আরও বড় পরিসরের সম্ভাবনা দেখছে।
ইউএসডিএ-র কৃষি বিশেষজ্ঞ Radha Mani (রাধা মণি) লিখেছেন, "ভারতীয় পরিবারে কাঠবাদাম বিলাসী নাশতা নয়, স্বাস্থ্যের প্রয়োজন ও উৎসবের অপরিহার্য উপাদান হিসেবে গভীরভাবে গেঁথে আছে।" তরুণ প্রজন্ম একে চলতি নাশতা হিসেবে নিচ্ছে; বাড়তে থাকা আয়, বিস্তৃত মধ্যবিত্ত, অনলাইন মুদি প্ল্যাটফর্ম, উদ্ভিদভিত্তিক খাদ্যে আগ্রহ আর বাদামের মিষ্টি ও প্রাতরাশের সিরিয়ালের চাহিদা—সবই ভোগ বাড়াচ্ছে। ১ লাখ ৯০ হাজার টনে ভারত এখন বিশ্বে দ্বিতীয়, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে; মাথাপিছু ভোগ ২০১৯-২০ থেকে প্রায় দ্বিগুণ হলেও আন্তর্জাতিক মানে এখনো কম। দেশটির স্বাস্থ্যকর নাশতার বাজার ২০২০ সালের ২৪৭ কোটি ডলার থেকে ২০২৫ সালে ৩১৩ কোটি ডলারে উঠেছে, ২০৩০ নাগাদ প্রায় ৪০০ কোটিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা।
ভারতে কাঠবাদাম ও আখরোটের উৎপাদন সামান্য, পেস্তার বাণিজ্যিক ফসল নেই। খারাপ আবহাওয়া, বয়স্ক বাগান, কম ফলন আর আনুষ্ঠানিক পাইকারি বাজারের অভাবে দেশটির কাঠবাদামের ফসল ২ শতাংশ কমে ৩,৯০০ টনে নামার পূর্বাভাস; অনেক চাষি ঝুঁকছেন আপেলে, যা বেশি লাভজনক ও সরকারি সহায়তা পায়।
আগস্ট থেকে জুলাইয়ের বাজার-বছরে আখরোট আমদানি ১০ শতাংশ লাফিয়ে ৭২ হাজার টনে পৌঁছানোর পূর্বাভাস—বাজারের ৩৯ শতাংশ চিলির, ২৬ শতাংশ আফগানিস্তানের, ২১ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রের; দেশীয় আখরোট উৎপাদন ১.৫ শতাংশ কমে ৩৩ হাজার টন, ভোগ ৮ শতাংশ বেড়ে ১ লাখ ৩ হাজার টন।
পেস্তার আমদানি ও ভোগ দুটোই ১০ শতাংশ বেড়ে ৫৫ হাজার টনের পূর্বাভাস। খোসাসহ পেস্তার বৃহত্তম সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্র, বাজারের ৩৭ শতাংশ; এরপর ইরান, ৩৩ শতাংশ—প্রথমটির হাতে মজুত কম, দ্বিতীয়টি জাহাজ-জটে। ২০১৯ থেকে পেস্তার চাহিদা বেড়েছে ১৪২ শতাংশ, আর সংগঠিত খুচরা, প্রিমিয়াম ও অনলাইন মুদিবাজারে আমেরিকান পেস্তা ক্রমেই বেশি চোখে পড়ছে।
সূত্র: Capital Press




মন্তব্য
(০)