মদিনার আলেম মালেক ইবনে আনাস (রহ.)-কে সম্মান করে বলা হতো হিজরতের শহরের ইমাম। ইসলামের চার প্রধান মাজহাবের একটি, মালেকি মাজহাবের প্রতিষ্ঠাতা তিনি, মদিনার ফিকহি ঐতিহ্যেরও প্রধান রূপকার। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় প্রাবন্ধিক ও গবেষক আহমাদ সাব্বির তাঁর জীবন ও কাজের কথা লিখেছেন।
ইয়েমেনের হিমইয়ারি গোত্রে তাঁর বংশমূল, তবে পূর্বপুরুষেরা বহু আগেই মদিনায় বসত গড়েছিলেন। অধিকাংশ ঐতিহাসিকের মতে তিনি ৯৩ হিজরিতে (৭১১-৭১২ খ্রিষ্টাব্দ) খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আবদুল মালেকের আমলে মদিনায় জন্মান। জীবনীকার কাজি ইয়াজের বরাতে লেখায় বলা হয়েছে, তিনি ৭০০ থেকে ৯০০ শিক্ষকের কাছে জ্ঞান নিয়েছিলেন, যদিও নিজে বলতেন, যাঁদের তাকওয়া নিয়ে তিনি নিশ্চিত ছিলেন কেবল তাঁদের কাছ থেকেই হাদিস নিয়েছেন।
হাদিসের দরসে বসার আগে তিনি গোসল করে পরিচ্ছন্ন পোশাক ও পাগড়ি পরতেন, সুগন্ধি মাখতেন; নবীজির (সা.) বাণীর প্রতি সম্মান দেখাতেই এই আদব। তাঁর নিজের কথা, মদিনার ৭০ জন শীর্ষ আলেম যোগ্য বলে সাক্ষ্য দেওয়ার আগে তিনি মসজিদে নববিতে দরসে বসেননি। মাত্র ২১ বছর বয়সে শুরু করে প্রায় ছয় দশক তিনি সেখানে পড়িয়েছেন; মিসর, উত্তর আফ্রিকা, আন্দালুস, ইরাক ও হেজাজ থেকে শিক্ষার্থীরা আসতেন। ইমাম শাফেয়ি (রহ.) তাঁর ছাত্র ছিলেন।
ক্ষমতাসীনদের সামনে সত্য বলার দৃঢ়তাও তাঁর পরিচয়। ১৪৭ হিজরিতে আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মানসুরের আমলে তিনি ‘জবরদস্তিমূলক তালাক কার্যকর নয়’ হাদিসটি বর্ণনা করলে মদিনার গভর্নর জাফর ইবনে সুলাইমান তাঁকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাত করান বলে ইবনে কাসির উল্লেখ করেছেন। পরে খলিফা নিজে এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
তাঁর শ্রেষ্ঠ কীর্তি আল-মুয়াত্তা। জীবনীকারদের বর্ণনায়, প্রায় চল্লিশ বছর ধরে তিনি গ্রন্থটি পরিমার্জন করেন এবং বারবার মদিনার আলেমদের কাছে যাচাইয়ের জন্য দেন। এর নানা বর্ণনাধারার মধ্যে ইয়াহিয়া ইবনে ইয়াহিয়া আল-লাইসির রিওয়ায়াতটি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি ও ইয়াহিয়া ইবনে মইনের মতো আলেমরা তাঁর বিশ্বস্ততার স্বীকৃতি দিয়েছেন।
প্রায় ৮৫ বছরের জীবন শেষে ১৭৯ হিজরির ১৪ রবিউল আউয়াল (৭৯৫ খ্রিষ্টাব্দ) খলিফা হারুনুর রশিদের আমলে তিনি ইন্তেকাল করেন। মদিনার জান্নাতুল বাকিতে তাঁকে দাফন করা হয়।
ছবি: Mondephile / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)