যুক্তরাষ্ট্রের দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকারীদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল ডেইরি ফুডস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএফএ) দেশটির বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তরকে (ইউএসটিআর) অনুরোধ করেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি ডিউ ডিলিজেন্স ডিরেক্টিভ (সিএসডিডিডি) যেন মার্কিন কোম্পানির ওপর কম প্রভাব ফেলে, সেটিকে ইউরোপের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রাধিকার দিতে। সংগঠনটির অভিযোগ, এই নিয়মের খরচ এমন কোম্পানিকেও বইতে হচ্ছে, যারা ইউরোপে কিছুই বিক্রি করে না।
চাপটা আসছে ক্রেতাদের মাধ্যমে। ইউরোপে ব্যবসা করা বহুজাতিক ক্রেতারা তাদের মার্কিন সরবরাহকারীদের কাছে ইউরোপীয় বা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সামাজিক অডিট ও কাগজপত্র চাইছে। ফলে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে চলা দুগ্ধ কারখানাকেও বাড়তি প্রশ্নপত্র, পরিদর্শন, নথি আর সংশোধনী প্রক্রিয়ার মুখে পড়তে হচ্ছে; কখনো একই বিষয়ে একাধিক ক্রেতার আলাদা অডিট।
আইডিএফএর তথ্যমতে, প্রাথমিক পর্যালোচনাতেই কয়েক হাজার ডলার লাগে; পরবর্তী কাজসহ পূর্ণ অডিট চক্রের খরচ কারখানাপ্রতি প্রায় ২৭ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে, আর কর্মীদের সময় লাগে ১০০ ঘণ্টার বেশি। সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে সংগঠনটির হিসাব, ভ্রমণ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও অডিট প্ল্যাটফর্মের ফি বাদেই পুরো শিল্পের খরচ ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার ছাড়াতে পারে। কিছু কোম্পানি জানিয়েছে, মানদণ্ড অস্পষ্ট, আর নিজেদের কারখানার অডিটের বিস্তারিত প্রতিবেদন দেখতেও তাদের বাড়তি টাকা দিতে হয়েছে।
নিজেদের যুক্তির পক্ষে আইডিএফএ আইনি প্রতিষ্ঠান স্টেপটো এলএলপিকে দিয়ে একটি পর্যালোচনা করিয়েছে। শিশুশ্রম, জোরপূর্বক শ্রম, কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা, সংগঠনের স্বাধীনতা, বৈষম্যহীনতা ও কাজের পরিবেশ নিয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমমান আর দুগ্ধ খামার ও কারখানায় প্রযোজ্য মার্কিন ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন সেখানে মিলিয়ে দেখা হয়। পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত, দুই ব্যবস্থার লক্ষ্য প্রায় একই, পথ আলাদা: মার্কিন আইন নির্দিষ্ট লঙ্ঘন নিষিদ্ধ করে শাস্তি দেয়, আর আন্তর্জাতিক কাঠামো কোম্পানিকে নিরন্তর তদারকি, নথিভুক্তি ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালাতে বলে।
আইডিএফএর প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডাইকস বলেন, শ্রমিক ও পরিবেশ রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রে বিস্তৃত আইন আছে এবং দুগ্ধশিল্প মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকারের পক্ষে; তবে বাণিজ্য অংশীদারদেরও মার্কিন নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে সম্মান করা উচিত, যেমন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ব্যবস্থাকে করে।
আইডিএফএ চায়, ইউএসটিআর ইউরোপীয় কমিশনের সঙ্গে কাজ করে ইউরোপের সীমানার বাইরে এই নিয়মের প্রয়োগ ঠেকাক এবং মার্কিন কোম্পানির জন্য ছাড় আদায় করুক। আইনি বিশ্লেষণটি দিয়ে সদস্যদের দেখানো হবে, কোথায় সত্যিকারের ঘাটতি আর কোথায় কেবল কাগজপত্র বা ভাষার পার্থক্য।
ছবি: Tony Webster / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Farms.com




মন্তব্য
(০)