আয়ারল্যান্ডে শরতের বাছুর প্রসবের মৌসুম এগিয়ে আসায় দুগ্ধ খামারিদের মিল্ক ফিভার ও তার পিছু পিছু আসা অন্যান্য বিপাকীয় সমস্যার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। মিল্ক ফিভার বা হাইপোক্যালসেমিয়ায় গাভীর রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা নেমে যায়, সাধারণত প্রসবের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে।
কম বয়সী গাভী ও বকনার ঝুঁকি বয়স্ক গাভীর চেয়ে কম—সিঙ্ক্রোনাইজেশন কর্মসূচিতে শরতের দলে অনেক প্রথমবার প্রসবকারী থাকায় এটি স্বস্তির। সবচেয়ে ঝুঁকিতে প্রজননক্ষমতা কম এমন বয়স্ক গাভী, কারণ দীর্ঘ শুষ্ককাল তাদের শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমায়।
ক্লিনিক্যাল মিল্ক ফিভারে গাভী পড়ে গেলে তা যথেষ্ট মাথাব্যথা, কিন্তু সাব-ক্লিনিক্যাল রূপ আরও খারাপ হতে পারে, কারণ এর ক্ষতি চোখে পড়ে না বা অন্য কারণের ঘাড়ে চাপে: ধীর বা অলস প্রসব, গর্ভফুল আটকে থাকা, জরায়ুর সংকোচন ব্যাহত হয়ে সংক্রমণ, দুর্বল পেশি, রুমেনের গতি কমা, শুষ্ক পদার্থ গ্রহণ কমা ও ঋণাত্মক শক্তি-ভারসাম্য। এসব দুধ কমায় এবং কিটোসিস বা অ্যাবোমেজাম স্থানচ্যুতির ঝুঁকি বাড়ায়; দুই রূপের মিল্ক ফিভারই পুরো দুগ্ধকাল জুড়ে অন্য রোগের দরজা খুলে দিতে পারে—যে বছর মুনাফা ক্ষুরের ধারে, সে বছর ব্যয়বহুল এক শৃঙ্খল।
প্রতিরোধ শুরু হয় ড্রাই-কাউ খনিজে, এমনকি গাভী এখনও মাঠে চরলেও: আদর্শভাবে গাভীপ্রতি দৈনিক ১০০–১২০ গ্রাম, বিশেষত প্রসবের তিন সপ্তাহ আগে-পরের ট্রানজিশন সময়ে। গোয়ালে থাকা গাভী সাইলেজের সঙ্গে তা পেতে পারে, তবে এ বছর খাদ্য টানাটানি বলে বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে চারণভূমিতে ছিটিয়ে দেওয়া—আদর্শভাবে দিনে দুবার, গাভীপ্রতি ৬০ গ্রাম করে। খনিজে থাকা চাই ২২ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম ও অন্তত ১৪,০০০ ইউনিট ভিটামিন ডি; তামা, সেলেনিয়াম, দস্তার মতো ট্রেস মিনারেল খাওয়াতে হবে প্রসবের অন্তত ছয় সপ্তাহ আগে থেকে।
সদ্য প্রসব করা গাভীকে কোলোস্ট্রাম পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিন-চার দিন দোহন পাল থেকে আলাদা ঘরে রেখে বাড়তি পুষ্টি ও যত্ন দেওয়া উপকারী। পরে প্রসব করবে এমন গাভীর খাদ্য নভেম্বরে দৈনিক ১০–১১ কেজি শুষ্ক পদার্থে সীমিত রেখে শরীরের অবস্থা-স্কোর ৩.৫-এর নিচে রাখতে হবে; ইতিমধ্যে অতিরিক্ত মোটা গাভীকে আলাদা করে খাদ্য সীমিত করে মূলত আঁশসমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে।
সাইলেজ যেকোনো অবস্থায় পরীক্ষা করানো উচিত, আর প্রসবকালে মিল্ক ফিভারের ইতিহাস থাকা খামারে তো অবশ্যই, কারণ উচ্চ পটাশিয়ামই প্রায়ই সমস্যার মূল: লক্ষ্য প্রসবের চার সপ্তাহ আগে থেকে ২.২ শতাংশের কম পটাশিয়ামের সাইলেজ। পরীক্ষায় শীতকালীন দোহন পাল সাইলেজের প্রকৃত পুষ্টিমানের সঙ্গে দানাদার খাবার মেলাতে পারে—কমও নয়, বেশিও নয়। প্রসবের সময় চামড়ার নিচে ক্যালসিয়াম বোতলের বদলে ভিটামিন ডি-সহ উচ্চ-ক্যালসিয়াম বোলাসের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরামর্শটি Agriland-এর জন্য লিখেছেন Cathal O'Shea (কাহাল ও'শে)।
সূত্র: Agriland





মন্তব্য
(০)