হিমবাহ হ্রদ ফেটে বন্যা থেকে জনপদ রক্ষায় পেরু একসময় বিশ্বে পথ দেখিয়েছিল, কিন্তু কয়েক দশকের বাজেট কাটছাঁট ও বিকেন্দ্রীকরণে সেই প্রতিরক্ষা এখন ভেঙে পড়ছে। গত মাসে হিমালয়ে প্রাণঘাতী হিমবাহ ধসের পর আন্দিজে পুরোনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে, জানিয়েছে Dialogue Earth (ডায়ালগ আর্থ)।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ওই ধস ত্রিশূলী ও ভোটেকোশী উপত্যকা ভাসিয়ে নেয়, মারা যান ১ হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ। পেরুর ভূতত্ত্ববিদ বেনহামিন মোরালেস শিশু বয়সে ১৯৪১ সালে পালকাকোচা হ্রদ ফেটে হুয়ারাজে হাজারো মানুষের মৃত্যু দেখেছেন, পরে দেখেছেন ১৯৭০ সালে হুয়াসকারান পর্বতের তুষারধসে দশ মিনিটেরও কম সময়ে ইউংগাই ও রানরাইরকায় ২৫ হাজার মানুষের মৃত্যু।
১৯৪১ সালের পর পেরু রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রতিরোধ কর্মসূচি গড়ে তোলে। ১৯৬০ থেকে ১৯৯০-এর দশকে প্রকৌশলীরা হ্রদের পানির স্তর নামান, নিষ্কাশন সুড়ঙ্গ খোঁড়েন, বাঁধ মজবুত করেন ও উপচে পড়া পানির নালা বানান; মোরালেসের হিসাবে কর্দিয়েরা ব্লাঙ্কায় ৩৫টি হিমবাহ হ্রদ স্থিতিশীল করা হয়। ২০০০ সালে বাজেট কাটছাঁটের মধ্যে সরকার হিমবাহবিদ্যা ও হ্রদ নিরাপত্তা কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।
এখন মূল্যায়ন করা ৮ হাজারের বেশি হিমবাহ হ্রদের মধ্যে ৫২৮টিকে উপচে পড়ার ঝুঁকিতে চিহ্নিত করেছে পেরুর জাতীয় হিমবাহ ও পার্বত্য বাস্তুতন্ত্র গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইনাইগেম), যার ১৬৯টি আনকাশ অঞ্চলে। ২০১৬ সালের মধ্যে পালকাকোচার পানির পরিমাণ ১৯৭২ সালের তুলনায় প্রায় ৩৪ গুণ হয়েছে, আর পঞ্চাশ বছরের পুরোনো বাঁধটি হুয়ারাজের প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের জন্য সম্ভাব্য বিপজ্জনক। বিশ্বব্যাংকের পরামর্শক আলোনসো ব্রেনেসের হিসাবে পেরুর আঞ্চলিক ও স্থানীয় সরকারের মাত্র ৩৫ শতাংশের দুর্যোগ ঝুঁকি সামলানোর সক্ষমতা আছে; তাঁর মতে, মানুষ ব্যবসা ও চাষের পানির প্রয়োজনে নদীর ধারে বসত করে।
ইনাইগেমের পাওলা মোসচেয়া জানান, আগাম সতর্কব্যবস্থা মানুষকে পালানোর জন্য ৬ থেকে ২৫ মিনিট সময় দিতে পারে; প্রতিষ্ঠানটি হুয়ারাজ, কুসকো ও হুয়ানুকোয় তিনটি তাৎক্ষণিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র চালায়। ধীরগতির সংকটটি পানির: ছয় দশকে পেরু তার হিমবাহ আচ্ছাদনের ৫৬ শতাংশ হারিয়েছে, ৬০-৬৫ শতাংশ মানুষ হিমবাহপুষ্ট নদী অববাহিকার পানির ওপর নির্ভরশীল, আর ৫৮ শতাংশ মানুষ পানির সংকটপূর্ণ এলাকায় থাকেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শিক্ষা হিমালয়ের দেশগুলোর জন্যও: হিমবাহ যত গলবে, ভাটির মানুষকে রক্ষায় সরকারগুলোকে কারিগরি দক্ষতা, প্রতিষ্ঠান ও অর্থায়ন ধরে রাখতে হবে।
প্রতিবেদনটি ডায়ালগ আর্থের জন্য লিখেছেন জ্যাক লো লাউ।
ছবি: NASA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: Dialogue Earth





মন্তব্য
(০)