কিয়ামতের দিনের তীব্র উত্তাপ ও পিপাসার মধ্যে নবীজির (সা.) উম্মতের জন্য আল্লাহর এক বিশেষ নেয়ামত হাউসে কাউসার। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় ফয়জুল্লাহ রিয়াদ কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে এর বর্ণনা দিয়েছেন।
সুরা কাউসারের প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাউসার দান করেছি।’ আরবি কাউসার শব্দের অর্থ প্রভূত কল্যাণ। ধর্মীয় বিবরণে এটি দুটি অর্থে এসেছে: বেহেশতের একটি নদী এবং কিয়ামতের ময়দানে একটি বিশাল জলাধার বা হাউস। সহিহ বুখারির (৬৫৮১) হাদিসে নবীজি মিরাজের রাতে দেখা সেই নদীর বর্ণনা দিয়েছেন, যার দুই তীরে ফাঁপা মুক্তার গম্বুজ আর মাটি বা সুবাস কস্তুরির মতো।
সহিহ মুসলিমের (২২৯২) বর্ণনায় হাউসের বিস্তৃতি এক মাসের পথের দূরত্বের সমান, চার কোণ সমান, পানি রুপার চেয়ে শুভ্র, সুবাস কস্তুরির চেয়ে মিষ্টি, পানপাত্র আকাশের তারার মতো অসংখ্য; একবার পান করলে আর কখনো পিপাসা লাগবে না। সুনানে তিরমিজির (২৫৪২) বর্ণনায় এর পানি দুধের চেয়ে সাদা ও মধুর চেয়ে মিষ্টি।
ইমাম কুরতুবি লিখেছেন, হিসাব-নিকাশ ও পুলসিরাতের আগেই এই হাউসে তৃষ্ণার্ত উম্মত পানি পান করবে। হাদিসে আছে, নবীজি নিজে হাউসের কিনারায় দাঁড়িয়ে উম্মতের অপেক্ষা করবেন।
সঙ্গে আছে সতর্কবার্তাও। সহিহ মুসলিমের (২২৯৩) হাদিসে এসেছে, কিছু মানুষকে হাউসের কাছ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, কারণ নবীজির পরে তারা ধর্মে পরিবর্তন ঘটিয়েছিল। ইমাম নববির ব্যাখ্যায় এরা সুন্নাহ ত্যাগ করে বিদআতে লিপ্ত, মুনাফিক বা ধর্মচ্যুত ব্যক্তিরা। লেখকের মতে, সুন্নাহর অনুসরণ ও কৃতজ্ঞতার মাধ্যমেই এই নেয়ামত পাওয়ার আশা করা যায়; সুরা কাউসারেই কাউসারের ঘোষণার পর নামাজ ও কোরবানির নির্দেশ এসেছে।
লেখাটি প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় প্রকাশিত; লেখক ফয়জুল্লাহ রিয়াদ।
ছবি: উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)