প্রায় ২ হাজার ২৩৬ কোটি টাকায় গড়ে তোলা ঢাকার হাতিরঝিল লেক এখন সরকারেরই আরেক মেগাপ্রকল্প ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চাপে। এক্সপ্রেসওয়ের সোনারগাঁও লিংক র্যাম্পের পিলার বসাতে লেকের ইস্কাটন অংশ বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে; এতে লেকের আয়তন কমেছে, পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
দেশ রূপান্তরের সরেজমিন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কারওয়ান বাজারের রেললাইন থেকে ইস্কাটনের বিয়াম ফাউন্ডেশনের গেট পর্যন্ত, সোনারগাঁও হোটেলের পেছনের অংশ ও মগবাজার অংশ ভরাট করা হয়েছে। হাতিরঝিলে প্রায় ২০টি পিলার বসানো হয়েছে, আরও ২১টি বসতে পারে। প্রকল্পের ৭৭ শতাংশ কাজ শেষ বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা; মূল পরিকল্পনায় হাতিরঝিলের ওপর দিয়ে সংযোগ র্যাম্প ছিল না।
প্রকল্প পরিচালক মো. গোলাম মর্তুজা বলেন, 'উন্নয়নকাজের জন্য কিছু অংশ ভরাট করা হয়েছে। কাজ শেষে হাতিরঝিলকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া হবে।' রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশার আগে রাজউককে জানানো হয়নি; পিলার না বসাতে তাঁরা চেষ্টা করলেও সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় অনুমতি দিতে বাধ্য হন। ২০২৩ সালে রাজউক জানিয়েছিল, পিলারের জন্য মৌখিক অনুমতি দেওয়া হলেও ভরাটের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ভরাটের পাশাপাশি পান্থপথ, তেজগাঁও, মগবাজারসহ আশপাশের এলাকার নালা দিয়ে পয়ঃবর্জ্য ও নোংরা পানি লেকে ঢুকছে। পানি কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, বিশেষ করে সোনারগাঁও হোটেলের পেছনে। বছর দুয়েক আগে সেখানে শত শত মাছ মরে ভেসে উঠেছিল। ২০১৮ সালে লেকের পানি শোধনে ৪৮ কোটি ৯০ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হলেও দূষণের উৎস বন্ধ না হওয়ায় স্থায়ী সমাধান হয়নি।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টসহ (আইপিডি) পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো ভরাট করে ৪১টি পিলার নির্মাণে জলাধারের কার্যকারিতা ও পানিপ্রবাহ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে। রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, লেকের সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং লেকের উন্নয়নে কয়েকটি কাজের দরপত্র প্রক্রিয়াধীন। প্রতিবেদনটি করেছেন দেশ রূপান্তরের ফয়সাল খান।
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)