সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮আদা - আমদানিকৃত১৬৭আদা - দেশী১৫৪আমন চাল - মাঝারি৫৬আমন চাল - মোটা৪৮আমন চাল - সরু৭২আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২কাঁচা মরিচ২১৮খামারের মুরগী১৬২খাসী৯০০চিনি (দেশী)১৩২ছোলা - গোটা৮৫ডিম ফার্ম - লাল৪৭পেঁয়াজ - দেশী৬০বোরো চাল - মাঝারি৫৫বোরো চাল - মোটা৪৭বোরো চাল - সরু৬৬মাংসঃ– গরু৭২৯মুগ ডাল১২২রসুন - আমদানিকৃত১৯২রসুন - দেশী১৭৩সয়াবিন তেল১৬৩
হালনাগাদ ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৫°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৯৫%বাতাস কিমি/ঘ

হাঁড়িভাঙা আম যেভাবে এলো

বাংলাদেশের আমপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে 'হাঁড়িভাঙা'। রংপুরের মিঠাপুকুরে যার জন্ম, সেই আম আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেছে বিদেশের বাজারেও। আঁশবিহীন গঠন, অতুলনীয় মিষ্টি স্বাদ আর ছোট আঁটির জন্য এ আম শুধু একটি ফল নয়; হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের অহংকার। তবে এমন অসাধারণ এক আমের নাম 'হাঁড়িভাঙা'—স

ফল

বাংলাদেশের আমপ্রেমীদের হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে 'হাঁড়িভাঙা'। রংপুরের মিঠাপুকুরে যার জন্ম, সেই আম আজ দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গেছে বিদেশের বাজারেও। আঁশবিহীন গঠন, অতুলনীয় মিষ্টি স্বাদ আর ছোট আঁটির জন্য এ আম শুধু একটি ফল নয়; হয়ে উঠেছে উত্তরবঙ্গের অহংকার। তবে এমন অসাধারণ এক আমের নাম 'হাঁড়িভাঙা'—সেটি শুনেই অনেকে কৌতূহলী হয়ে পড়েন, এই নাম কেন? কোথা থেকে এলো?

ফলের রাজা হিসেবে পরিচিত আমের আছে নানা জাত ও স্বাদের বৈচিত্র্য। তবে এ বৈচিত্র্যের ভিড়ে যে জাতটি আলাদা জায়গা করে নিয়েছে, তা হলো 'হাঁড়িভাঙা'। সুস্বাদু আমটি পরিণত হয়েছে রংপুরের 'ব্র্যান্ডে'। হাঁড়িভাঙা আমের যাত্রা শুরু হয়েছিল রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার তেকানী গ্রাম থেকে। তবে 'হাঁড়িভাঙা' নামকরণের পেছনের গল্পটিও ঠিক ততটাই মজার; যতটা সুস্বাদু এ আম।

জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা আমটির গোড়াপত্তন করেছেন নফল উদ্দিন পাইকার। তিনি একজন বৃক্ষপ্রেমী ছিলেন। সম্ভবত ১৯৪৯ সালের দিকে রংপুরের মিঠাপুকুরের বালুয়া মাসুমপুর গ্রামটি ছিল ঝোঁপজঙ্গলে ভরপুর। সেই এলাকার একটি জমি থেকে দুটি আমের চারা নিয়ে এসে কলম করেন নফল উদ্দিন। তখন আমটির নাম ছিল মালদিয়া।

দুর্ভাগ্যবশত একটি গাছ চুরি হয়ে যায়। বাকি আম গাছটিতে মাটির হাঁড়ি বেঁধে ফিল্টার বানিয়ে পানি দেওয়া হতো। একদিন রাতে কে বা কারা মাটির সেই হাঁড়িটি ভেঙে ফেলে। তবে গাছটিতে একসময় বিপুল পরিমাণ আম ধরে। যা দেখতেও সুন্দর, খেতেও খুবই সুস্বাদু। এরপর বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে গেলে কৌতূহলী ক্রেতারা ওই আম সম্পর্কে জানতে চান।

তখন নফল উদ্দিন মজা করে বলেছিলেন, 'যেই গাছে লাগানো হাঁড়িটি মানুষ ভেঙে ফেলেছে; সেই হাঁড়িভাঙা গাছের আম এগুলো।' তখন থেকেই গাছটির আম 'হাঁড়িভাঙা' নামে পরিচিতি পায়। একটি হাস্যকর ঘটনা ও আমের অনন্য স্বাদ—দুয়ে মিলে শুরু হয় এক নতুন ইতিহাস।

সুস্বাদু ও মিষ্টি হওয়ায় চারদিকে আমটির খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে সেই মাতৃগাছ থেকে জোড়কলম করার হিড়িক পড়ে যায়। এলাকার মানুষ জোড়া কলম নিয়ে লাগাতে থাকেন। গড়ে উঠতে থাকে বাগান। নফল উদ্দিন মারা যাওয়ার পর হাঁড়িভাঙা আমের মাতৃগাছে মানুষ এসে এত জোড়কলম করতে লাগলেন যে, গাছটির ডালগুলো হেলে পড়া শুরু করল। এরপর আশির দশকে বাণিজ্যিকভাবে গাছের কলম করে অনেকেই আমবাগান গড়ে তুলতে শুরু করেন।

হাঁড়িভাঙা আমের সম্প্রসারণে অনেকই যুক্ত আছেন। তবে এরমধ্যে লুৎফর রহমান ও আবদুস সালাম সরকারের আছে আলাদা পরিচিতি। ১৯৯০ সালের পর থেকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হাঁড়িভাঙা আম চাষ শুরু করেন তারা। বর্তমানে রংপুর জেলার বিস্তৃতি ছেড়ে হাঁড়িভাঙা নীলফামারী সদর, সৈয়দপুর, দিনাজপুরের পার্বতীপুর, খানসামা, চিরিরবন্দর এলাকায়ও চাষ হচ্ছে হাঁড়িভাঙা।

মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের তেকানী গ্রামে মাতৃগাছটি এখনো দাঁড়িয়ে আছে নীরবে। তার শাখা-প্রশাখা ছড়ানো, গোঁড়া এমন মোটা যে দুইজন মিলেও পুরোটা জড়িয়ে ধরতে পারবেন না। আজ যতই নতুন নতুন গাছের চাষ হোক; মাতৃগাছটি রয়ে গেছে ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী হয়ে। যা এখনো ফল দিয়ে যাচ্ছে।

এ আমের গাছ আকর্ষণীয়। ডগা পুষ্ট ও বলিষ্ঠ। ডালে জোড়কলম লাগালে গাছ দ্রুত বাড়তে থাকে। চারা রোপণের পরবর্তী বছরেই মুকুলের দেখা মেলে। এ ছাড়া এ আম গাছের ডালপালা ঊর্ধ্বমুখী বা আকাশচুম্বী হওয়ার চেয়ে পাশে বেশি বিস্তৃত হয়। উচ্চতা কম হওয়ায় ঝড়-বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ে না এবং আম কম ঝরে।

হাঁড়িভাঙা আম আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু। আমের উপরিভাগ বেশি মোটা ও চওড়া, নিচের অংশ চিকন। দেখতে সুঠাম ও মাংসালো, শ্বাস গোলাকার ও একটু লম্বা। চামড়া পাতলা। এ আমের আঁটিও খুব ছোট। চামড়া কুচকে গেলেও সহজে আম পচে না। ছোট থেকে পাকা পর্যন্ত একেক স্তরে একেক স্বাদ পাওয়া যায়।

প্রতিটি আমের ওজন হয় ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। প্রতি বছর জুনের দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আম সংগ্রহ করা হয়। মৌসুমী ফল হিসেবে এই আম ভোক্তাদের আগ্রহের জায়গা দখল করতে পেরেছে।

জাগো নিউজ ২৪দা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

এআই দিয়ে স্ট্রবেরির জাত উদ্ভাবন: জাপানের Culta এখন বিশ্ববাজারের দিকে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ফলের জাত উদ্ভাবন করে চুক্তিবদ্ধ চাষির মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ফল বিক্রি করা জাপানি স্টার্টআপ Culta অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আলোচনা চালাচ্ছে; ২০৩২ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য ৩ হাজার কোটি ইয়েন (১৯ কোটি ৫০ লাখ ডলার) আয়।

এজিফান্ডনিউজ ২৪১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬৩ মিনিটের পড়া
ফল

কেরানীগঞ্জে উচ্চমূল্যের ফল চাষে দুই তরুণের সাফল্য

গতানুগতিক শিল্পের গণ্ডি পেরিয়ে কৃষিতে নতুন ভবিষ্যৎ খুঁজছেন শিক্ষিত তরুণরা। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ২৫ বিঘা জমি লিজ নিয়ে উচ্চমূল্যের অপ্রচলিত ফলের আধুনিক চাষাবাদ শুরু করেছেন দুই তরুণ শিল্পোদ্যোক্তা। শাম্মাম, রকমেলন ও ব্ল্যাক বেবি তরমুজ চাষে প্রথমবারেই এসেছে বড় সাফল্য।

শাইখ সিরাজ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও
এগ্রোটেক

চাষিকে তথ্য-বিশ্লেষক হতে হবে না, বলছেন Orchard Robotics-এর Charlie Wu

Orchard Robotics-এর প্রতিষ্ঠাতা Charlie Wu বলছেন, ট্রাক্টরে বসানো তাঁদের এআই ক্যামেরা গাছ ধরে ধরে ফল গোনে ও মাপে, শ্রম ও উপকরণ সাশ্রয়ে প্রথম বছরেই তিন থেকে দশ গুণ ফেরত দেয়; আপেল থেকে কোম্পানিটি এখন আরও এক ডজন ফসলে যাচ্ছে।

এজিফান্ডনিউজ ২৪২ সেপ্টেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

()