সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮+০.০%আদা - আমদানিকৃত১৬৭+০.০%আদা - দেশী১৫৪+০.০%আমন চাল - মাঝারি৫৬+০.০%আমন চাল - মোটা৪৮+০.০%আমন চাল - সরু৭২+০.০%আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২+০.০%কাঁচা মরিচ২১৮+০.০%খামারের মুরগী১৬২+০.০%খাসী৯০০+০.০%চিনি (দেশী)১৩২+০.০%ছোলা - গোটা৮৫+০.০%ডিম ফার্ম - লাল৪৭+০.০%পেঁয়াজ - দেশী৬০+০.০%বোরো চাল - মাঝারি৫৫+০.০%বোরো চাল - মোটা৪৭+০.০%বোরো চাল - সরু৬৬+০.০%মাংসঃ– গরু৭২৯+০.০%মুগ ডাল১২২+০.০%রসুন - আমদানিকৃত১৯২+০.০%রসুন - দেশী১৭৩+০.০%সয়াবিন তেল১৬৩+০.০%
হালনাগাদ ৩ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৯%বাতাস ৭ কিমি/ঘ

থামছে না বৃষ্টি, হাওরে পাকা বোরো তলিয়ে যাচ্ছে; সুনামগঞ্জে ১৮ হাজার হেক্টর পানির নিচে

কিশোরগঞ্জে সাত হাজার একর ও নেত্রকোনায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর ধান পানিতে, কাটা ধানও রোদের অভাবে পচছে; বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র বলছে হাওরে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

হাওর অঞ্চলে বোরো কাটার ভরা মৌসুমে টানা বৃষ্টিতে প্রতিদিনই বাড়ছে পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ, আর যেটুকু ধান তড়িঘড়ি কাটা হয়েছে তাও রোদ না থাকায় পচতে শুরু করেছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, সুনামগঞ্জে এখনো ১৮ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচে, নেত্রকোনায় শুক্রবার নাগাদ প্রায় সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর তলিয়েছে, আর কিশোরগঞ্জে শনিবার নাগাদ নিমজ্জিত জমি সাত হাজার একর ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জে ইতোমধ্যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সামনে তার অবনতি ও নতুন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে।

সুনামগঞ্জ সদরের হালুয়ারগাঁওয়ের কৃষক আনোয়ার হোসেন দেড় কানি (প্রায় ৬০ শতাংশ) জমিতে ধান করেছিলেন, সামান্য পরিমাণও তুলতে পারেননি। তার কথায়, "সব তলায়া গেছে। কিছুই পাই নাই। ধার-দেনা কইরা সার বীজ কীটনাশক কিনছিলাম। কেমনে শোধ অইবো, আর কেমনে কী করবাম জানি না।" কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের গয়েশপুর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ জসিম জানাচ্ছেন, কমলা রঙ ধরা ধান সকালে দেখে এসে দুপুরে গিয়ে পেয়েছেন পানি, কাটার সময়ই মেলেনি, পরদিন পুরোটা তলিয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান বলছেন, শনিবার সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টিতে নিমজ্জিত জমি দ্রুত বাড়ছে, রোদ না থাকায় উঠানো ধান শুকানো যাচ্ছে না, তবু যেখানে সুযোগ আছে সেখানে ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রোদ ওঠায় কিছুটা স্বস্তি এসেছিল এবং শুক্রবার পর্যন্ত অনেকে পাকা ধান কেটেছিলেন; কিন্তু শুক্রবার রাত থেকে আবার বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হওয়ায় যারা কাটেননি এবং যারা কেটে স্তূপ করে রেখেছেন, দুই পক্ষই বিপাকে।

কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, ভৈরবে মেঘনা ছাড়া জেলার বাকি নদীগুলোর পানি বেড়েছে, যদিও এখনো বিপদসীমার নিচে; কিছু এলাকায় পানি সরাতে বাঁধ কেটে দেওয়া হচ্ছে। সুনামগঞ্জ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদারের ভাষ্য, বাঁধগুলো সুরক্ষিত আছে, তবে ধান কাটা হয়ে যাওয়া এলাকায় বাঁধ কেটে পানি বের করার ব্যবস্থা হচ্ছে; আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি আরও বাড়ার পূর্বাভাস আছে।

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি অফিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক হিসাব দিচ্ছেন, হাওর এলাকায় ৭১ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে, হাওর ও হাওরের বাইরে মিলিয়ে গড়ে ৬০ শতাংশ, অর্থাৎ ৪০ শতাংশ ধান এখনো মাঠে। "কৃষকের সারা বছরের খোরাকি মাঠে। বৃষ্টির কারণে সময়মত ধান কাটা যায়নি," বলেন তিনি; ভারী বৃষ্টি না হলে কাটা চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা তার। নেত্রকোনায় ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে কংস ও উব্দাখালী বিপদসীমার ওপরে বইছে, সোমেশ্বরীসহ আরও কয়েকটি নদীর পানি বাড়ছে; জেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম বলছেন, মার্চের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি, দুই দফা শিলাবৃষ্টি ও পরে টানা বৃষ্টিতে বোরো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে, যদিও নতুন বৃষ্টি না হলে অবনতির আশঙ্কা কম বলে জেলা প্রশাসনের ভাষ্য।

হাওরে বছরে একটিই ফসল, বোরো, এবং ১৫ এপ্রিল থেকে ১৫ মে তা কাটার সময়। এবার এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই বৃষ্টিতে কাটা শুরু করা যায়নি, আর মার্চের মাঝামাঝি থেকে বৃষ্টি, শিলা ও অতি ভারী বর্ষণে কাটার প্রস্তুতিও ব্যাহত হয়েছে বলে কৃষি অফিসগুলো জানাচ্ছে। জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হাওরে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার কথা জানিয়েছেন। মাঠে থাকা ৪০ শতাংশ ধানের ভাগ্য এখন নির্ভর করছে আগামী কয়েক দিনের রোদের ওপর।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিবিসি বাংলাসূত্র

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফল

জলে ডোবা ধানখেতে পানিফল চাষে লাভ দেখছেন তমলুকের চাষিরা

নিম্নচাপ আর অতিবৃষ্টিতে জমিতে জল জমে ধান পচে যাওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের তমলুক ব্লকের চাষিরা পানিফল চাষে ঝুঁকেছেন; প্রতি কাঠায় এক থেকে দেড় কুইন্টাল ফলন, কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা।

এই সময়৩ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

সারে অনিয়মে ডিলারশিপ বাতিল, জড়িত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা: কৃষিমন্ত্রী

রবি মৌসুমের সার সরবরাহ নিয়ে জেলা প্রশাসক ও ডিএইর উপপরিচালকদের সঙ্গে সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, অনিয়ম বা কৃষক হয়রানিতে নতুন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল হবে; প্রতিটি দোকানে দাম ও মজুতের তালিকা টাঙাতে হবে এবং সীমান্তে পাচার ঠেকাতে কড়া নজরদারি লাগবে।

কৃষি তথ্য সার্ভিস৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
শাকসবজি

এক বাড়ির শিম চাষ এখন ২০ পরিবারের আয়, সুন্দরগঞ্জের জরমনদী গ্রামে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের জরমনদী গ্রামে প্রায় ১৬ বছর আগে নাটোর থেকে আনা পুঁটি জাতের বীজে শুরু হওয়া শিম চাষ এখন অন্তত ২০ পরিবারের প্রায় ৩৫ বিঘায়; পাইকারিতে কেজি ৫০ টাকা, তবে উপকরণের দাম বাড়ায় লাভ কমছে।

সমকাল৩ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)