মাটিতে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য অণুজীবের মধ্যে কোনগুলো থেকে জৈব বালাইনাশক বা ফসল সুরক্ষা পণ্য তৈরি হতে পারে, তা আগেভাগে বাছাই করতে জিনোমিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মডেল চালু করেছে জার্মানির হামবুর্গের প্রতিষ্ঠান সয়েলিটিক্স (Soilytix)। মডেলগুলোর নাম লোম (LOAM)। ৫ অক্টোবর এ খবর দিয়েছে এগনেভিগেটর।
সয়েলিটিক্সের কর্মকর্তা রাজাকুমার বলেন, এআই এখন বিপুলসংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থী তৈরি করছে; কিন্তু সবগুলোকে যদি গবেষণাগার, গ্রিনহাউস ও মাঠের ব্যয়বহুল পরীক্ষা পেরোতে হয়, তবে প্রার্থী বাড়ানো মানে জট আরও বাড়ানো। তাই প্রতিষ্ঠানটি পরীক্ষা বাদ দিতে নয়, পরীক্ষার আগে ধাপে ধাপে তালিকা ছোট করতে চায়।
লোম প্রশিক্ষণ পেয়েছে মাটি, পলি ও পানির নমুনা থেকে লং-রিড সিকোয়েন্সিংয়ে পুনর্গঠিত ১৫,৬৪০টি অণুজীব জিনোমে, যাতে আছে প্রায় ৬,৭৫০ কোটি ডিএনএ বেস। রাজাকুমারের উদাহরণে, কোনো কোম্পানি যদি নির্দিষ্ট এক প্রজাতির ফিউজারিয়াম ছত্রাকের বিরুদ্ধে ছত্রাকনাশী পেপটাইড খোঁজে, তবে প্রথমে তুলনা করা হবে এমন খেত, যেখানে জীবাণু রোগ ঘটিয়েছে, আর এমন খেত, যেখানে জীবাণু থাকা সত্ত্বেও রোগ হয়নি। এই পার্থক্যই দেখিয়ে দেয় কোন অণুজীব ছত্রাককে দমিয়ে রাখছে; তাদের জিনোম লোমের ছত্রাকবিরোধী সংস্করণ দিয়ে খোঁজা হয়, কম্পিউটারে বাছাইয়ের পর অল্প কয়েকটি প্রার্থী যায় প্রাথমিক পরীক্ষায়, আর সেরাগুলো অংশীদার কোম্পানি গ্রিনহাউস ও মাঠে যাচাই করে।
জীবাণু সার, বীজের প্রলেপ বা জৈব উদ্দীপক কেন এক জায়গায় কাজ করে আর অন্য জায়গায় করে না, সেই প্রশ্নের উত্তরও খুঁজছে প্রতিষ্ঠানটি। রাজাকুমার ও প্রধান নির্বাহী ব্রুনো স্টাইনক্রাউস আগে ক্যানসার চিকিৎসায় কোন রোগী কোন চিকিৎসায় সাড়া দেবেন, তা নিয়ে কাজ করেছেন; কৃষিতে তাঁরা একই প্রশ্ন দেখছেন: কোন জৈব পণ্য কোন মাটি, ফসল ও পরিবেশে কাজ করবে। পরীক্ষামূলক মাঠ চালানো কোম্পানিগুলোর জন্য তারা ইতিমধ্যে মাটির জৈব সূচক বিশ্লেষণ করছে।
তবে একটি সীমাবদ্ধতা আছে: এই পদ্ধতি থেকে এখনো গবেষণাগারে প্রমাণিত কোনো প্রার্থী আসেনি। মাঠের তথ্য থেকে কম্পিউটারে যাচাই করা ছত্রাকবিরোধী পেপটাইড পর্যন্ত পুরো ধারা চালু আছে, আর ইউনিভার্সিটি অব হামবুর্গের সঙ্গে প্রথম গবেষণাগার যাচাই শুরু হচ্ছে। ২০২৭ সালে ফসল সুরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পরীক্ষামূলক প্রকল্পের পরিকল্পনা আছে; কত সময় বা অর্থ বাঁচবে, তা বলার মতো তথ্য এখনো নেই বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কৃষকের কাছে এর গুরুত্ব হলো রাসায়নিক বালাইনাশকের জৈব বিকল্পের দাম ও নির্ভরযোগ্যতা: উন্নয়নের পথে কম ব্যর্থতা আর মাটির সঙ্গে মিলিয়ে পণ্য বাছাই করা গেলে জৈব পণ্য আরও ভরসাযোগ্য হতে পারে।
সূত্র: AgNavigator



মন্তব্য
(০)