ইসলাম কি কেবল নামাজ, রোজা, জাকাত ও হজের আনুষ্ঠানিকতা, নাকি বিশ্বাস, আচরণ ও আখেরাতের প্রস্তুতিসহ পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা? প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় গাজীপুরের বাইতুল আকরাম মসজিদ ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্সের শিক্ষক মাহমুদ হাসান ফাহিম এর উত্তর খুঁজেছেন ‘হাদিসে জিবরাইল’-এ।
সাহাবি ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বর্ণনা করেছেন, একদিন মহানবী (সা.) সাহাবিদের নিয়ে বসে থাকা অবস্থায় ধবধবে সাদা পোশাক ও ঘন কালো চুলের এক অচেনা ব্যক্তি এলেন; তার গায়ে দূর সফরের চিহ্ন ছিল না, অথচ কেউ তাকে চিনতেন না। তিনি নবীজির মুখোমুখি বসে ইসলাম, ইমান, ইহসান ও কেয়ামত সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তিনি চলে যাওয়ার পর নবীজি জানালেন, তিনি ছিলেন ফেরেশতা জিবরাইল, এসেছিলেন তোমাদের ধর্ম শেখাতে (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৮)।
ইসলাম কী, এ প্রশ্নের উত্তরে নবীজি পাঁচটি স্তম্ভের কথা বলেন: আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল, এই সাক্ষ্য; নামাজ কায়েম; জাকাত আদায়; রমজানের রোজা; আর সামর্থ্য থাকলে হজ। ইমাম নববির ব্যাখ্যায়, এখানে ইসলাম বলতে প্রকাশ্য আমল, শারীরিক ইবাদত ও মৌখিক স্বীকৃতিকে বোঝানো হয়েছে।
ইমান সম্পর্কে নবীজি ছয়টি স্তম্ভের কথা বলেন: আল্লাহ, ফেরেশতা, আসমানি কিতাব, রাসুলগণ, আখেরাত এবং তাকদিরের ভালো-মন্দে বিশ্বাস। লেখকের ভাষায়, ইসলাম যেখানে মানুষের বাহ্যিক দেহ, ইমান সেখানে তার আত্মিক প্রাণ।
ইহসানের সংজ্ঞায় নবীজি বলেন, "তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে নিশ্চয়ই তিনি তোমাকে দেখছেন।" লেখক ইবনুল কাইয়িমের ব্যাখ্যা উদ্ধৃত করেছেন: এই অনুভূতি থাকলে ইবাদত থেকে অহংকার, অবহেলা ও প্রদর্শনপ্রিয়তা দূর হয়। কেয়ামতের সময় সম্পর্কে নবীজি জানান, এ বিষয়ে প্রশ্নকারী ও উত্তরদাতার জ্ঞান সমান; তা কেবল আল্লাহই জানেন।
ইবনে রজব আল-হাম্বলি লিখেছেন, সুরা ফাতিহাকে যেমন ‘উম্মুল কুরআন’ বলা হয়, তেমনি এই হাদিসকে বলা যায় ‘উম্মুস সুন্নাহ’। কাজি ইয়াদের মতে, জিবরাইলের (আ.) পরিপাটি বেশে বিনয়ের সঙ্গে বসে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা শিক্ষার্থীর আদবেরও শিক্ষা। লেখক শেষ করেছেন এই কথায়: ধর্ম বিচ্ছিন্ন কিছু রীতি নয়; বিশ্বাস, কর্ম ও চরিত্রের মেলবন্ধন।
ছবি: নীল কোরআনের একটি পাতা, মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: প্রথম আলো



মন্তব্য
(০)