মানুষের জীবনে নানা বিপদ আসে: প্রিয়জন হারানো, অর্থকষ্ট, দুশ্চিন্তা। এসব কঠিন সময়কে মুমিন ভিন্ন চোখে দেখেন; তিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহর কোনো সিদ্ধান্তই অকল্যাণকর নয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ যার কল্যাণ চান, তাকে বিপদে নিপতিত করেন। (সহিহ বুখারি ৫৬৪৫)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, মুমিনের জীবনের বিপদ সব সময় শাস্তির নিদর্শন নয়। বিপদের মাধ্যমে আল্লাহ বান্দার গুনাহ ক্ষমা করেন, মর্যাদা বাড়ান এবং তাকে নিজের দিকে ফিরে আসার সুযোগ দেন। সুখের সময় ব্যস্ততা ও স্বাচ্ছন্দ্য মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরাতে পারে; বিপদে মানুষ নিজের অসহায়ত্ব বোঝে এবং আল্লাহর সাহায্য চায়।
আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে ক্লান্তি, রোগ, দুশ্চিন্তা, কষ্ট, ক্ষতি ও বিপদ আসে, এমনকি শরীরে যে কাঁটা বিঁধে, এর মাধ্যমেও আল্লাহ তার কিছু গুনাহ ক্ষমা করে দেন। (সহিহ বুখারি ৫৬৪১)
তাই বিপদে হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধরা, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা এবং নিজের ভুলের জন্য তওবা করা মুমিনের গুণ। বিপদ থেকে মুক্তির দোয়ার পাশাপাশি বিপদের শিক্ষা বোঝাও জরুরি। যে বিপদকে আমরা কষ্ট মনে করি, হয়তো সেটিই দুনিয়া ও আখেরাতের বড় কল্যাণের দরজা খুলে দিচ্ছে।
ছবি: Habib M'henni / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর



মন্তব্য
(০)