সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৫%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ধান ও পোল্ট্রিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গিনিতে অ্যাগ্রিকানেক্ট কম্প্যাক্ট চালু

গিনি সরকার ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল কোনাক্রিতে অ্যাগ্রিকানেক্ট কম্প্যাক্ট চালু করে; আমদানি কমাতে ধান ও পোল্ট্রি, উপকরণ হিসেবে ভুট্টা ও সয়াবিন এবং রপ্তানির জন্য ফনিও ও আম অগ্রাধিকার পায়, লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে কয়েক লাখ কর্মসংস্থান।

ধান ও পোল্ট্রিকে অগ্রাধিকার দিয়ে গিনিতে অ্যাগ্রিকানেক্ট কম্প্যাক্ট চালু
এগ্রোবিজ

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনির সরকার ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ২০২৬ সালের ৩০ এপ্রিল রাজধানী কোনাক্রিতে ‘গিনি অ্যাগ্রিকানেক্ট কম্প্যাক্ট’ চালু করে। বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই সমন্বিত কৌশলগত কাঠামোর লক্ষ্য দেশটির কৃষি-খাদ্যব্যবস্থার টেকসই রূপান্তর ত্বরান্বিত করা, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা জোরদার করা, শোভন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কৃষিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও শিল্পায়নের চালিকাশক্তি করা। গিনির সংবাদমাধ্যম গিনিমাতিন জানায়, কর্মসূচিটির মেয়াদ ২০২৬ থেকে ২০৩১ সাল।

অনুষ্ঠান ও কাঠামো


গিনিমাতিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অর্থ, অর্থনীতি ও বাজেটমন্ত্রী মারিয়ামা সিরে সিলা; তিনি অনুপস্থিত কৃষিমন্ত্রীর প্রতিনিধিত্ব করেন। সঙ্গে ছিলেন প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ফেলিক্স লামা এবং কারিগরি ও আর্থিক অংশীদাররা।

কম্প্যাক্টটি ‘২০৪০ সিমান্দু এজেন্ডা’র সঙ্গে সংগতিপূর্ণ, যার প্রথম স্তম্ভে কৃষি ও প্রাণিসম্পদকে অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানের মূল চালক ধরা হয়েছে। সিমান্দু গিনির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ১১০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি পর্বতশ্রেণি, যেখানে লোহার আকরিকের বড় মজুত রয়েছে। কম্প্যাক্টে সরকারের পাশাপাশি যুক্ত বিশ্বব্যাংক গ্রুপের তিন অঙ্গ: আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ), আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশন (আইএফসি) ও বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ গ্যারান্টি সংস্থা (মিগা)। আরও আছে কারিগরি ও আর্থিক অংশীদার, বেসরকারি খাত ও উৎপাদক সংগঠন। তিনটি অগ্রাধিকার একসঙ্গে গাঁথা হয়েছে: গ্রামীণ অবকাঠামো, সরকারি সংস্কার ও বিনিয়োগ এবং বেসরকারি অর্থায়ন সংগ্রহ।

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা গিনির রাজধানী কোনাক্রি ও আশপাশের উপকূল। ছবি: NASA (ISS Expedition 22) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন থেকে তোলা গিনির রাজধানী কোনাক্রি ও আশপাশের উপকূল। ছবি: NASA (ISS Expedition 22) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

অগ্রাধিকারের ফসল ও পশুপালন


খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে সবার আগে রাখা হয়েছে ধান ও পোল্ট্রি। কৌশলগত উপকরণ হিসেবে, মূলত পশুখাদ্যের জন্য, সমর্থন পাবে ভুট্টা ও সয়াবিন। বৈচিত্র্য ও রপ্তানির সম্ভাবনাময় শৃঙ্খল হিসেবে কম্প্যাক্ট সমর্থন দেবে ফনিও ও আমকে।

ফনিও পশ্চিম আফ্রিকার এক ধরনের ক্ষুদ্রদানা শস্য (ডিজিটারিয়া গণের ঘাস), যা গ্লুটেনমুক্ত ও খরাসহিষ্ণু। গিনির ফুতা জালোন পার্বত্য অঞ্চলে এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এফএওর তথ্যভিত্তিক হিসাবে ২০১৯ সালে বিশ্বের মোট ফনিও উৎপাদনের ৭৫ শতাংশের বেশি হয়েছিল গিনিতে।

তেলিরের একটি ফনিও খেত। ছবি: Aboubacarkhoraa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
তেলিরের একটি ফনিও খেত। ছবি: Aboubacarkhoraa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ফেলিক্স লামা অনুষ্ঠানে বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে অগ্রাধিকার পোল্ট্রি শিল্প। তাঁর হিসাবে গিনি তখন প্রায় ১০ হাজার টন হিমায়িত মুরগি আমদানি করত। তিনি জানান, পরের পাঁচ বছরে মুরগির মাংস, দুধ ও খাওয়ার ডিমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে দেশের ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি মানুষের চাহিদা মেটানো লক্ষ্য। এ জন্য তিনি তিনটি চ্যালেঞ্জের কথা বলেন: বেসরকারি বিনিয়োগ টানার মতো নীতি ও আইনি কাঠামো, মানসম্মত পণ্য বাজারে আনার অবকাঠামো এবং অর্থায়ন।

২০৩০ সালের লক্ষ্য ও অর্থায়ন


বিশ্বব্যাংকের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে কম্প্যাক্টের লক্ষ্যগুলো হলো:

  • খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি
  • কৃষি ও কৃষি-খাদ্য মূল্যশৃঙ্খলে কয়েক লাখ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান, বিশেষ করে তরুণ ও নারীদের জন্য
  • চাল ও পোল্ট্রিপণ্যের মতো প্রধান খাদ্যে আমদানিনির্ভরতা কমানো
  • ফনিও ও আমের রপ্তানি সম্ভাবনা কাজে লাগানো

মন্ত্রী সিলা জানান, কর্মসূচিতে ভূমি খাতের সংস্কার, রপ্তানির জন্য কৃষিপণ্যের সনদ পাওয়া সহজ করা, গ্রামীণ সড়ক মেরামত এবং কৃষিপণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অবকাঠামোয় বিনিয়োগ থাকবে। ক্ষুদ্র কৃষকদের সক্ষমতা, অর্থায়নে প্রবেশাধিকার এবং ডিজিটালসহ নতুন প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কথাও তিনি বলেন।

গিনিতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের আবাসিক প্রতিনিধি ইসা মারে দিয়াও বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট বিশ্বব্যাংক গ্রুপের হাতিয়ারগুলো, অর্থাৎ আইডিএ, আইএফসি ও মিগার মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের সুযোগ দেয়, যাতে গিনির কৃষির গভীর রূপান্তরে সহায়তা করা যায়।’ অনুষ্ঠানে তিনি জানান, সেই বছরের মার্চে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্থানীয় উৎপাদনে সহায়তার জন্য ২ কোটি ডলারের অর্থায়ন চুক্তি সই হয়েছে এবং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অর্থায়নের আরও বড় দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে।

কৃষিমন্ত্রী আমিনাতা কাবা বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘অ্যাগ্রিকানেক্ট কম্প্যাক্টের মাধ্যমে গিনি কৃষিকে অর্থনৈতিক রূপান্তরের কেন্দ্রীয় স্তম্ভ হিসেবে দাঁড় করানোর পথে এক দৃঢ় পদক্ষেপ নিল, যা সরাসরি সিমান্দু করিডরের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত।’

গিনিতে আম বিক্রেতারা। ছবি: Hmadiyan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গিনিতে আম বিক্রেতারা। ছবি: Hmadiyan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

অ্যাগ্রিকানেক্ট বিশ্বব্যাংক গ্রুপের একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের ৩০ কোটি ক্ষুদ্র কৃষককে ফসলের ভালো দাম পেয়ে আয় বাড়াতে সহায়তা করা। এতে অংশীদার হিসেবে আছে আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ), আন্তঃআমেরিকান উন্নয়ন ব্যাংক, বায়ার ও গুগল।

ছবি: Abdoulrahamane 99MDS Barry / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: বিশ্বব্যাংক, গিনিমাতিন, উইকিপিডিয়া (ফনিও, সিমান্দু)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

শাকসবজি

মাদারগঞ্জে ৬০ হেক্টরে আগাম শসা, দুই হাজার টন উৎপাদনের আশা

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এবার প্রায় ৬০ হেক্টরে আগাম শসার আবাদ হয়েছে, উৎপাদন হতে পারে প্রায় দুই হাজার টন; পাইকারি বাজারে কেজি ৩০-৪০ টাকা, বিঘায় খরচ ১৫-২০ হাজার আর বিক্রি ৩০-৪০ হাজার টাকা।

ডেইলি বাংলাদেশ১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

হরমুজ প্রণালী ও কানাডা-বাণিজ্যের ঝুঁকিতে চাপে নাইট্রোজেন, ফসফেট ও পটাশ সার

স্টোনএক্সের সার বিশ্লেষক জশ লিনভিল বলছেন, হরমুজ প্রণালীতে বিঘ্নে ইউরিয়া, অ্যামোনিয়া, ফসফেট ও সালফারের সরবরাহ ঝুঁকিতে; আর যুক্তরাষ্ট্রের পটাশ আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ নির্ভর করে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর।

মিশিগান এজি টুডে১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)