বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত আগাছানাশক গ্লাইফোসেটের মানবস্বাস্থ্য ঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য যে গবেষণা-তালিকা তৈরি হয়েছে, তার ওপর জনমত দেওয়ার সময় ৬০ দিন বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা (ইপিএ)। গ্লোবাল এগ্রিকালচার জানিয়েছে, ২৮ সেপ্টেম্বর ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে শেষ দিন ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরিয়ে ২০২৬ সালের ২৩ নভেম্বর করা হয়েছে।
ইপিএ বলেছে, "অংশীজনদের কাছ থেকে আরও অর্থবহ মতামত পেতে" এই সময় দেওয়া হয়েছে। ২৫ আগস্ট প্রথম প্রকাশিত নথিটিতে আছে গ্লাইফোসেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়নের জন্য বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহে ইপিএর পদ্ধতিগত পর্যালোচনার কৌশল, অনুসন্ধানের শব্দ, তথ্যভান্ডার ও বাছাইয়ের মানদণ্ড, সঙ্গে পাওয়া গবেষণার একটি তালিকা। ইপিএ চাইছে, তাদের অনুসন্ধানে বাদ পড়া পিয়ার-রিভিউড ও সবার জন্য উন্মুক্ত গবেষণার পূর্ণ তথ্যসূত্র জানানো হোক।
এই পর্যালোচনা চলছে প্রায় দুই দশক ধরে: ইপিএ ২০০৯ সালের জুলাইয়ে গ্লাইফোসেটের নথি খোলে, ২০১৯ সালের মে মাসে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত দেয়। নতুন গবেষণা-তালিকার লক্ষ্য সেই মূল্যায়নের মানবস্বাস্থ্য অংশকে হালনাগাদ করা।
সেপ্টেম্বরে ইপিএ ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে গ্লাইফোসেটের বিজ্ঞান যৌথভাবে পর্যালোচনার জন্য কারিগরি দল গঠন করেছে; তাতে হালনাগাদ স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়নের লক্ষ্য ২০২৬ সালের শেষ থেকে সরে ২০২৭ সালের শুরুতে গেছে। গ্লোবাল এগ্রিকালচারের মতে, নতুন সময়সীমা সেই ধীরগতিকেই নিশ্চিত করল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর ফল যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশসহ অনেক নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিজেদের গ্লাইফোসেট পর্যালোচনায় ইপিএর নথিকে মানদণ্ড ধরে, আর ভারত ও চীন রপ্তানির জন্য জেনেরিক গ্লাইফোসেটের বড় উৎপাদক। সময় বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত গ্লাইফোসেট নিরাপদ কি না, সে বিষয়ে কোনো রায় নয়; এতে শুধু প্রমাণ জমা দেওয়ার সময় বেড়েছে।
ছবি: U.S. Fish and Wildlife Service / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার





মন্তব্য
(০)