বেলজিয়ামের গেন্টভিত্তিক জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান জাইমোফিক্স (Zymofix) জৈব কৃষি উপকরণে ব্যবহৃত জীবন্ত অণুজীব তৈরির প্রথম শিল্প কারখানা গড়তে সিরিজ এ তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে ৬০ লাখ ইউরো পেয়েছে। কারখানাটি হবে বেলজিয়ামের ডেইনজে শহরে, চালু হওয়ার কথা ২০২৭ সালের শেষ প্রান্তিকে। ৩০ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানটি তহবিলের ঘোষণা দেয়।
এই দফায় নেতৃত্ব দিয়েছে ফার্স্ট ইমাজিন!; আগের বিনিয়োগকারী ভিপি ক্যাপিটাল, এইচটিজিএফ ও দ্য নেস্ট ফ্যামিলি অফিস আবার বিনিয়োগ করেছে। শিল্প সংবাদমাধ্যমের তথ্যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি ২০ লাখ ইউরোর প্রাথমিক (সিড) তহবিল পেয়েছিল।
বেশির ভাগ জৈব কৃষি উপকরণ তৈরি হয় তরল গাঁজন পদ্ধতিতে, যেখানে অনেক কাজের অণুজীব ভালো বাড়ে না। জাইমোফিক্সের জাইফট (Zyft) প্রযুক্তি একটি কঠিন-অবস্থা গাঁজন প্ল্যাটফর্ম, যা এমন কঠিন অণুজীবের জন্যই তৈরি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ১৭০টির বেশি ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও ইস্ট এতে পরীক্ষা করা হয়েছে।
ডেইনজে কারখানায় শুরুতে বছরে ৩০০ টন উৎপাদন হবে, যা প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে প্রায় ১০ লাখ হেক্টর জমিতে প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট। ২০২৮ সালের লক্ষ্যে আড়াই কোটি ইউরো বাজেটের দ্বিতীয় ধাপে সক্ষমতা বছরে ২,০০০ টনে উঠবে। প্রতিষ্ঠানটি এখনই ১৫টির বেশি গ্রাহকের জন্য চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন করে, যাদের বেশির ভাগ বহুজাতিক কৃষি উপকরণ কোম্পানি। কর্মী প্রায় ৩৫ জন থেকে ২০২৭ সালের শেষে ৬০ জনে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
প্রধান নির্বাহী ও সহপ্রতিষ্ঠাতা এমিল রেদান্ত বলেন, অণুজীবের জীববিজ্ঞান উদ্ভাবনের চেয়ে বাণিজ্যিক পরিমাণে নিয়মিত মানে সেগুলো উৎপাদন করা এখনও বেশি কঠিন। ফার্স্ট ইমাজিন!-এর অংশীদার বরিস দোরাঁ বলেন, ইউরোপের জৈব উপকরণ খাতের সবচেয়ে দুর্বল জায়গা উৎপাদন।
রাসায়নিক বালাইনাশকের নিয়ম কড়া হওয়ায় এবং কৃষক প্রতিরোধ ব্যবস্থাপনা ও অবশিষ্টাংশ কমানোর উপায় খোঁজায় বায়োস্টিমুল্যান্ট, জৈব সার ও জৈব বালাই দমন উপকরণ ফসল সুরক্ষার নিয়মিত অংশ হয়ে উঠছে। ইউরোপের অনেক উদ্ভাবককে উত্তর আমেরিকা বা এশিয়ার চুক্তিভিত্তিক উৎপাদকের ওপর নির্ভর করতে হয়, এতে খরচ, সময় ও সরবরাহ ঝুঁকি বাড়ে; কঠিন অণুজীবের জন্য ইউরোপে বড় কারখানা সেই বাধাই কমাতে চায়।
ছবি: Pleple2000 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)