কয়েক দফা চুরি ও পাচারের পর গাজীপুর সাফারি পার্কের বন্য প্রাণীর দেহে মাইক্রোচিপ বসাতে চায় বন বিভাগ। পাচার হওয়া প্রাণী শনাক্ত করতে দুর্লভ ও সংবেদনশীল প্রাণীর ডিএনএ প্রোফাইলিংও করা হবে। বন অধিদপ্তরের বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট তাদের ফরেনসিক ল্যাবে কাজটি করবে।
মাইক্রোচিপ চালের দানার মতো ছোট একটি ইলেকট্রনিক চিপ, যাতে একটি অনন্য নম্বর থাকে; শনাক্তকরণ যন্ত্রে সেই নম্বর পড়ে প্রাণীটিকে চেনা যায়। ডিএনএ প্রোফাইলিং মানে প্রাণীর জিনগত ছাপ সংরক্ষণ, যাতে পরে প্রাণীটিকে বা তার রক্তের সম্পর্কের প্রাণীকে বৈজ্ঞানিকভাবে শনাক্ত করা যায়। কর্মকর্তারা বলছেন, উদ্ধার হওয়া প্রাণী পার্কের কি না, সেই সংশয় এতে দূর হবে।
চুরির ঘটনাগুলো একের পর এক। ২০২৪ সালের ২২ নভেম্বর সাফারি কিংডম থেকে দুটি গ্রিন উইং ম্যাকাও চুরি হয়; একটি উদ্ধার হলেও রহস্য মেলেনি। ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি একটি নীলগাই হারিয়ে যায়। একই বছরের মার্চে পাচার হয় পার্কের সবচেয়ে দুর্লভ প্রাণী মাদাগাস্কারের তিনটি রিং-টেইলড লেমুর; সিআইডির তদন্তে জানা যায়, সেগুলো সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে গেছে।
বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ছানাউল্যা পাটওয়ারী জানান, সংবেদনশীল ও দুর্লভ প্রাণীর জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অপরাধ দমন ইউনিটের প্রধান মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, কোন প্রাণীর চিপ ও প্রোফাইলিং দরকার, তা আগে ঠিক করা হবে। কিছু চিপ হাতে আছে; ল্যাবে রিএজেন্টের যে ঘাটতি, তা এক মাসের মধ্যে আসবে।
২০১০ সালে শ্রীপুরের ৩ হাজার ৬৯০ একর সংরক্ষিত বন নিয়ে পার্কের কাজ শুরু হয়; ২০১৩ সালে ৭৩ প্রজাতির ১ হাজার ৫০০ প্রাণী নিয়ে যাত্রা। এখন জনবল ৮৪ জন। পার্কের দায়িত্বে থাকা সহকারী বন সংরক্ষক তারেক রহমান বলেন, সাড়ে তিন হাজার একরের পার্কে নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জ; চিপ ও প্রোফাইলিং থেকে প্রাণীর স্বাস্থ্যের উপাত্তও মিলবে। দেশে অন্য সাফারি পার্কটি কক্সবাজারের ডুলাহাজারায়।
দুবাই সাফারি পার্কে কাজ করা বন্য প্রাণী বিশেষজ্ঞ রেজা খান উদ্যোগটিকে ভালো বলেছেন, বিশ্বজুড়ে সাফারি পার্কে এ চর্চা আছে। তবে তাঁর মতে, খাঁচাগুলো অস্বাস্থ্যকর, প্রাণী বোঝার মতো দক্ষ জনবল নেই এবং পুরোনো পদ্ধতিতে ব্যবস্থাপনা চলছে, যা বদলাতে হবে।
প্রতিবেদনটি প্রথম আলোর প্রতিবেদক মোস্তফা ইউসুফের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
ছবি: Muminur Rahman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)